অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল সিন্ডিকেট ‘ড্যাজেল’ (Dazzle)-এর স্বত্বাধিকারী দিদারুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মীকে নিজের প্রতিষ্ঠানে ‘বিক্রয়কর্মী’ বা সেলসম্যান হিসেবে পুনর্বাসন করেছেন দিদারুল।
এই পুনর্বাসিত ছাত্রলীগ কর্মীদের মাধ্যমেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে চলছে এক নীরব যুদ্ধ। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ১৭ মাসে আওয়ামী লীগ নেতারা হাজার চেষ্টা করেও যে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ বা রেমিট্যান্স বন্ধের ডাক সফল করতে পারেননি, সেই কাজটিই এখন প্রবাসীদের ভুল বুঝিয়ে হাসিল করার চেষ্টা করছে ‘দিদারুল গং’।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড্যাজেলের ঢাকাসহ সারা দেশের শোরুমগুলোতে গত কয়েক মাসে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের বড় একটি অংশই ৫ আগস্টের পর পলাতক বা কোণঠাসা হয়ে পড়া ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ও সক্রিয় কর্মী। এদের মূল কাজ মোবাইল বিক্রি করা নয়, বরং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা। বিশেষ করে প্রবাসী গ্রাহক বা তাদের আত্মীয়-স্বজন দোকানে এলেই তারা এনইআইআর (NEIR) নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
গত দেড় বছরে বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা বহুবার ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর ডাক দিলেও দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু এবার দিদারুল সিন্ডিকেট প্রবাসীদের আবেগকে পুঁজি করে অর্থনৈতিক ধসের ছক কষেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দিদারুল ইসলাম খান মূলত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কালো টাকা সাদা করার ‘মেশিন’ হিসেবে কাজ করতেন। তার উত্থানই হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর হাত ধরে। ৫ আগস্টের পর বাচ্চু দুবাই পালালেও দিদারুল দেশে থেকে সিন্ডিকেটের হাল ধরেছেন এবং দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা শুধু ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু দিদার ভাই ও তার লোকজন আমাদের জোর করে প্রবাসীদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে বলছে। তারা চায় প্রবাসীরা টাকা পাঠানো বন্ধ করলে ডলার সংকট হবে, আর সরকার বিপদে পড়বে। এটা তো ব্যবসার অংশ হতে পারে না, এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হতে পারে এবং রাষ্ট্রের অর্থনীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইল ব্যবসার আড়ালে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হওয়া সময়ের দাবি।





















