রাজধানীর আলোচিত গ্যাজেট শপ ‘অ্যাপল গ্যাজেটস লিমিটেড’-এর তিন কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ‘সুমাশ টেক’ (Sumash Tech)-এর স্বত্বাধিকারীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থপাচার, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে অবৈধভাবে স্মার্টফোন আমদানি ও কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের কর কমিশনারের কার্যালয় (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট) থেকে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো একটি চিঠিতে সুমাশ টেকের মালিক আবু সাঈদ পিয়াস-এর ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২০০ ধারা মোতাবেক এই হিসাব তলব করা হয়।
সুমাশ টেকের মালিকের নামে থাকা সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, এফডিআর, এসটিডি, ক্রেডিট কার্ড, এমনকি লকার বা ভল্টসহ সব ধরণের আর্থিক লেনদেনের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ১ জুলাই ২০১৮ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যাবতীয় লেনদেনের অর্ধ-বছরভিত্তিক হালনাগাদ বিবরণী সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যাপল গ্যাজেটস এবং সুমাশ টেকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ‘লাগেজ পার্টি’ সুবিধা অপব্যবহার করে অবৈধভাবে দামী স্মার্টফোন দেশে আনছে। এসব ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোন বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত বিশাল অংকের অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ মোবাইল আমদানি করে এবং এর মাধ্যমে সরকার বছরে আনুমানিক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তথাকথিত ‘লাগেজ পার্টি’র আড়ালে বিদেশে ডলার পাচার করে ভিয়েতনাম, চায়না, দুবাই ও ভারত থেকে দামী ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন দেশে আনছে। এসব ফোন চোরাচালানের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ আবার হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে বৈধ উৎপাদনকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
দুদকের নজরদারি:
এর আগে অ্যাপল গ্যাজেটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফ মাহমুদসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, তারা ইউটিউবারদের দিয়ে রিভিউ করিয়ে অবৈধ ফোনের বাজার জমিয়ে তুলেছেন এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক থেকে তথ্য পাওয়ার পর তাদের দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন যাচাই করা হবে। আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসংগতি বা কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মোবাইল ডিভাইস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান Sumash Tech–এর মালিক আবু সায়ীদ পিয়াসের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।






















