এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসি ভবনে হামলার পর থেকেই অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে গোপন স্থান থেকে ভিডিও বার্তা এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি ‘কঠোর আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাতিলের দাবিতে রবিবার (৪ জানুয়ারি) আন্দোলনে নামছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর ঢাকায় এই কর্মসূচীতে তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ী নেতারা।
জানা গেছে, ‘ল্যাগেজ পার্টি’ ও ‘গ্রে মার্কেট’ সিন্ডিকেটের কয়েকজন নেতা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে লাইভে এসে দোকান বন্ধ রাখার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকার শুল্ক না কমিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করে ছোট ব্যবসায়ীদের বিপদে ফেলেছে। তবে আজ শনিবার থেকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই ডাক প্রত্যাখ্যান করে দোকান খুলতে শুরু করায় সিন্ডিকেট নেতারা এখন ‘অজ্ঞাত স্থান’ থেকে নতুন কৌশলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর পুলিশ ও যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। গত দুই দিনে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এই হামলার নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করা হচ্ছে। যারা পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করা হচ্ছে। অজ্ঞাত স্থান থেকে আন্দোলনের ডাক দিলেও তারা খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আসবে।
বিটিআরসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ধরনের ভাঙচুর বা আন্দোলনের মুখে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজস্ব সুরক্ষার এই কারিগরি পদক্ষেপ (NEIR) স্থগিত করা হবে না। অবৈধ ফোন ব্যবহার করে যে ৮০ শতাংশের বেশি ডিজিটাল অপরাধ হচ্ছে, তা বন্ধে এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখা অপরিহার্য।
সিন্ডিকেট নেতারা আন্দোলনের ডাক দিলেও সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ দোকান মালিকই মনে করছেন, ভাঙচুর ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে তারা সাধারণ জনগণের সহানুভূতি হারিয়েছেন। যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটির অনেক ব্যবসায়ী এখন বৈধ পথে হ্যান্ডসেট আমদানির দিকে ঝুঁকতে আগ্রহী হচ্ছেন।






















