এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু তেজগাঁও কার্যালয়ে নিজের আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আবহে শনিবার সকালে এই কার্যালয়ে পদার্পণ করেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে এই দপ্তরের কর্মতৎপরতা পুনরায় পূর্ণোদ্যমে সচল হওয়ায় প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত ও প্রথম স্বাক্ষর
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যালয়ে পৌঁছেই ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন তারেক রহমান। এটিই ছিল তাঁর নতুন দাপ্তরিক জীবনের প্রথম সরকারি স্বাক্ষর। ২১শে ফেব্রুয়ারির মতো একটি জাতীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই দাপ্তরিক যাত্রাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক বিশেষ মাইলফলক ও ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
অভূতপূর্ব ও আবেগঘন অভ্যর্থনা
সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। ভবনে প্রবেশের সময় দীর্ঘদিনের পুরনো সহকর্মী ও কর্মচারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের নাম ধরে সম্বোধন এবং তাঁদের পারিবারিক খোঁজখবর নেওয়া উপস্থিত সবার মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
প্রকৃতি প্রেম ও মোনাজাত
দাপ্তরিক কাজের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় চত্বরে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ ফুলের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা
আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি দেশের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















