মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরান সরাসরি মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই অঞ্চল ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ইরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বুধবার রাত ৮টা থেকে এই বিশেষ অভিযান বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা শুরু হতে যাচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব কোম্পানি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ সক্রিয়ভাবে জড়িত বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে শত্রু পক্ষকে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরান এই সংঘাতকে সাধারণ সামরিক যুদ্ধ থেকে ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়ার’ বা অবকাঠামো যুদ্ধে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে যে কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব টেক জায়ান্ট:
টেক ও সফটওয়্যার: মেটা, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল, এনভিডিয়া, ইন্টেল, ওরাকল, আইবিএম, ডেল, প্যালান্টিয়ার ও সিসকো।
অ্যারোস্পেস ও অটোমোবাইল: বোয়িং ও টেসলা।
আর্থিক ও শিল্প খাত: জে.পি. মরগান ও জিই (General Electric)।
অন্যান্য: স্পায়ার সলিউশনস এবং জি৪২ (G42)।
ইরান সরকার এবং দেশটির বিশেষ বাহিনী (IRGC) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই কোম্পানিগুলোর অফিস, ডেটা সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশেপাশে থাকা কোনো কর্মীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা তারা দেবে না। বিশেষ করে দুবাই, আবুধাবি এবং ইসরায়েলে থাকা এই কোম্পানিগুলোর কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে বলা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই দুবাইয়ের বিজনেস বে এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকা থেকে অনেক মার্কিন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সাময়িকভাবে অফিস ত্যাগ করতে শুরু করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকেও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের নাগরিকদের জন্য উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


















