দেশে অবৈধ ও চোরাই পথে আসা মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রবর্তিত ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই প্রযুক্তি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হওয়ার ফলে সরকার মূলত পাঁচটি বিশেষ ক্ষেত্রে সরাসরি সুফল পেতে শুরু করেছে।
রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও শুল্ক ফাঁকি রোধ
এতদিন গ্রে-মার্কেট বা অবৈধ পথে আসা হ্যান্ডসেটগুলোর কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ শুল্ক হারাত। এখন এনইআইআর ডাটাবেজে নিবন্ধিত না থাকলে কোনো হ্যান্ডসেট সিম নেটওয়ার্কে সচল থাকছে না। ফলে আমদানিকারকরা বৈধ পথে ফোন আনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারের কোষাগারে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব নিশ্চিত করছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, অপরাধীরা সাধারণত পরিচয় গোপন রাখতে ক্লোন করা বা অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করত। এখন প্রতিটি হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বর গ্রাহকের এনআইডি ও সিম কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় যেকোনো অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ফোন চুরি বা ছিনতাই হলে তা দ্রুত ব্লক করা যাচ্ছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (MFS) মাধ্যমে হওয়া প্রতারণা অনেকাংশে কমে আসবে।
রক্ষা পাচ্ছে দেশীয় মোবাইল শিল্প
বর্তমানে দেশে ১৮টির বেশি মোবাইল উৎপাদনকারী কারখানা সক্রিয় রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা কম দামি অবৈধ ফোনের ভিড়ে দেশীয় কোম্পানিগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছিল। এনইআইআর চালুর ফলে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ফোনের বাজার বড় হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নকল ও নিম্নমানের হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ
বাজারে নামি ব্র্যান্ডের লোগো লাগানো নকল বা রিফারবিশড (Refurbished) ফোন বিক্রি ঠেকাতে এনইআইআর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ডাটাবেজে তথ্য না থাকলে সেই ফোনগুলো শনাক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।
সঠিক পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিটিআরসি এখন সহজেই দেশে সক্রিয় হ্যান্ডসেটের সঠিক সংখ্যা এবং প্রযুক্তির (৪জি বা ৫জি) ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাচ্ছে। এই ডাটাবেজ ভবিষ্যতে টেলিকম নীতিমালা প্রণয়ন এবং সারা দেশে ফাইভ-জি বিস্তারে সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
এদিকে, গ্রাহকদের বৈধ পথে ফোন কিনতে উৎসাহিত করতে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের ওপর শুল্ক প্রায় ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে সরকার।
বিটিআরসি জানিয়েছে, এখন থেকে নতুন ফোন কেনার আগে গ্রাহককে অবশ্যই সেটির বৈধতা যাচাই করতে হবে। মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD <স্পেস> ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি এসএমএসে হ্যান্ডসেটটির বৈধতা জানা যাবে।


















