ক্রমবর্ধমান সাইবার হামলা, হ্যাকিং এবং আর্থিক প্রতারণা থেকে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে বড় ধরনের মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীনে ‘স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটি অব ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা (৫৫ মিলিয়ন ডলার)।
তৃণমূল পর্যায়ে ‘সাইবার ভলান্টিয়ার’ নিয়োগ
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো শুধু শহর নয়, বরং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাইবার সচেতনতা পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে ‘সাইবার সিকিউরিটি চ্যাম্পিয়ন’ বা স্বেচ্ছাসেবক। তারা স্থানীয় সাধারণ মানুষকে অনলাইন নিরাপত্তা, পাসওয়ার্ড সুরক্ষা এবং সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে সরাসরি সহায়তা করবেন।
গড়ে উঠবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো
প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে:
এনএসওসি (NSOC): একটি কেন্দ্রীয় ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার’ যা সার্বক্ষণিক সাইবার স্পেস নজরদারি করবে।
এনসিইআরটি (NCERT): জরুরি সাইবার হামলা মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এই টিম।
ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব: সাইবার অপরাধের তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে।
৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান: দেশের প্রধান ৩৫টি তথ্য অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজরদারি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।
এআই হেল্পলাইন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
নাগরিকদের দ্রুত সহায়তা দিতে এই প্রকল্পে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) সাইবার নিরাপত্তা হেল্পলাইন চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখান থেকে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট তৈরি করা হবে।
অর্থায়ন ও বাস্তবায়নকাল
জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) করার প্রক্রিয়া চলছে।



















