রাজধানীতে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’। দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে আয়োজিত এই এক্সপো আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি ইতিমধ্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এই এক্সপো। তবে শেষ দিন বিকেলেই পর্দা নামবে প্রদর্শনীর।
‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার’ প্রতিপাদ্যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত এক্সপোতে ব্রডব্যান্ড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করছে। এবারের আয়োজনে রয়েছে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ২০টি স্টল।
এক্সপোর অন্যতম আকর্ষণ ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’। এখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রায় ২৫টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। রোবটিকস, আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) এবং অন্যান্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এতে করে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
১৩ এপ্রিল, সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এক্সপোর উদ্বোধন করা হয়। মেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভূইঞা লাইসেন্স নবায়নসহ বিরাজমান সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেন এবং খাত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার (এফটিএসপি) নাম পরিবর্তন করে আবার ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার’ নামটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ)-এর ব্যবহার নীতিমালাও পুনর্বিবেচনা করা হবে।’
এছাড়াও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইএসপি লাইসেন্স নবায়ন ও অ্যাক্টিভ শেয়ারিং–সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, ‘এই খাতে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তবে বর্তমানে নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে, বাকিটা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। ‘অ্যাক্টিভ শেয়ারিং’ চালু হলে এই অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।’ এছাড়া ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে ট্রান্সমিশন রেট এক করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের হার প্রায় ১৫ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা, নীতি সহায়তা পেলে আগামী ৫ বছরে এই হার ৫০ শতাংশ করা সম্ভব।
আয়োজকরা আশা করছেন, ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


















