আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো পবিত্র হজ্জ পালনের সময় মক্কা, মদিনা এবং পবিত্র স্থানসমূহে (মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা) প্রবেশের প্রধান ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল আইডি নুসুক। এ বছর থেকে হাজীদের জন্য বাধ্যতামূলক কার্ডটি বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো এই কার্ডটি যেন দেশে বসেই বাংলাদেশের হাজিরা পেতে পারেন সেই সুযোগ করে দিলো বাংলাদেশ সরকার।
রাজধানীর একটি হোটেলে ১৩ মে, সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের রিক্রিয়েশন হলে (৭ম তলা) এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন বেসামরিক ও বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এর স্বত্তাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদি আমিন, হজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এম. ডি. শামীম কায়সার লিংকন এমপি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাওয়াফ মিনার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এহসান কাতেব ও হেড অব রাওয়াফ মিনা সার্ভিস সেন্টার লুয়াই ফয়সাল আবদুল্লাহ খান। এ সময় হাবের সহ-সভাপতি শামীম সাঈদীসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অন্যতম বেসরকারি লীড এজেন্সি আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের উদ্যোগে এবং সৌদির রাওয়াফ মিনা এজেন্সির সহযোগিতায় ১৪টি এজেন্সির হাজীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়বেসামরিক বিমান পরিহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সোমবার হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আড়াই ঘন্টা বৈঠক করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে হজ এজেন্সিগুলো যদি হাজীদের সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একইভাবে বিমান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে হাজীদের সেবায়। তাদের কেউ যদি সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। তিনি বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথমবারের মত দেশে বসেই হাজীরা নসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আগামীতে হজ ব্যবস্থাপনা যাতে আরো সুন্দর ও আধুনিকভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বলেন, দেশে এই প্রথমবারের মত এ রকম একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যা হজ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আগামীতে দেশের হজ ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিক, সুশৃংখল ও হাজী বান্ধব করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। মূলত ইসলাম ধর্মের ফরজ এ ইবাদত যাতে সবাই সুন্দরভাবে পালন করতে পারে সেজন্য কিভাবে হজের খরচ আরো কমানো যায় সে ব্যাপারে কাজ করবে সরকার। আগামীতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকার আরো আধুনিক ও আর্ন্তজাতিকমানের হজ ব্যবস্থাপনা উপহার দিতে পারবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
সংসদ সদস্য শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার হজের প্রস্ততির জন্য খুবই কম সময় পেয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিময় নেতৃত্বে আমরা এবার একটি সুশৃংখল হজ উপহার দিতে পারবো বলে আশা করছি। সৌদিতে যেখানেই লাল-সবুজের হজ মিশনের অফিস থাকবে সেখান থেকে হাজীরা সেবা নিতে পারবেন। নুসুক কার্ড খুবই গুরুত্বপূণ একটি পরিচয়। যেটা হারিয়ে গেলে হাজীরা বিপদে পড়েন। এটি দেশ থেকে আগেই দিয়ে দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার বলেন, নুসুক কার্ডের গুরুত্ব অত্যাধিক। নুসুক কার্ড না থাকলে হারাম শরীফে প্রবেশ করা যায় না। এমনকি শ্রমিকদের সাথে যে আচারণ করা হয় সে আচারণের শিকার হন হাজীরা। তারা আটকও হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এবারই প্রথম সরকার দেশে থেকেই নুসুক কার্ড বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসাযোগ্য। তবে এ কার্ড বিতরণে আমাদের সর্তক থাকতে হবে। কার্ড আগেই দিয়ে দিলে হজযাত্রীরা দেশে রেখে চলে যেতে পারে বা হারিয়ে ফেলতে পারে। তখন আর দ্বিতীয় কার্ড করা যাবে না। এজন্য হাজীরা যাওয়ার আগে বিমানে এ কার্ড বিতরণের পরামর্শ দেন তিনি।


















