দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর অ্যাপলের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তার এই প্রস্থান ও জন টার্নাসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রযুক্তি প্রধানরা।
স্যাম অল্টম্যান থেকে শুরু করে ওয়ারেন বাফেটের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্যক্তিরা কুকের এ বিদায়বেলায় তার অসামান্য অবদানের প্রশংসা ও বর্ণিল সব স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন।
সোমবার অ্যাপল ঘোষণা করেছে, বর্তমান সিইও টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন জন টার্নাস, যিনি বর্তমানে কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই প্রযুক্তি বিশ্বের ব্যক্তিত্বরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, স্টিভ জবস ২০১১ সালে পদ ছাড়ার পর কুক দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জবসের অধীনে কুক ছিলেন কোম্পানির অপরেশন প্রধান, অ্যাপলের ভাষায় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, অপরেশন্স।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান লিখেছেন, “কুক একজন কিংবদন্তি। তিনি যা কিছু করেছেন তার জন্য ও অ্যাপলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
২০২৪ সালে অ্যাপল ও ওপেনএআই প্রথমবারের মতো পার্টনারশিপ শুরু করে, যার মাধ্যমে সিরি ও অ্যাপলের ‘রাইটিং টুলস’-এ চ্যাটজিপিটি যোগ হয়। কুককে নিয়ে ‘ওকুলাস ভিআর’-এর প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকিও সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন।
তিনি লিখেছেন, “আরআইপি টিম অ্যাপল”, যেখানে তিনি ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘটা সেই ঘটনারই দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
ওই ঘটনায় প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ভুল করে টিম কুককে ‘টিম অ্যাপল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কুক তখন বিষয়টি বেশ মজার ছলে নিয়ে তার টুইটার প্রোফাইলে নিজের নামের শেষ অংশ সরিয়ে সেখানে অ্যাপলের লোগো বসিয়ে দিয়েছিলেন।
পালমার লাকি ২০১৭ সালে ফেইসবুক ছেড়ে একই বছরের শেষদিকে ‘অ্যান্ডুরিল’ নামের এক প্রতিরক্ষা টুল তৈরির কোম্পানি গড়ে তোলেন। অন্যদিকে, ‘বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে’-এর চেয়ারম্যান ওয়ারেন বাফেট বলেছেন, “কুক না থাকলে অ্যাপল আজকের এ অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না। “অ্যাপলের জন্য তিনি যা করেছেন তা আমার পরিচিত অন্য কেউ করতে পারতেন বলে আমি মনে করি না।”
বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ অ্যাপলে।
কুকের প্রশংসা করে বাফেট বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে ব্যবসা সামলানো, নানা ধরনের ইতিহাস ও সংস্কৃতির দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং গ্রাহক, কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা সবকিছুতেই কুক অনন্য। “আমরা ভাগ্যবান যে, আমরা তার কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হতে পেরেছি।”
প্রশংসা এল মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে টিম কুকের মেয়াদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “আমার প্রথম মেয়াদের শুরুতে কুুকের একটি ফোন কলের মাধ্যমেই আমাদের সম্পর্কের শুরু হয়েছিল। “কুকের ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ, প্রায় অতুলনীয়। তিনি অ্যাপলের জন্য ও ভবিষ্যতে তিনি যা-ই করতে চান না কেন, সেখানে দারুণ কাজ করে যাবেন। এক কথায় বলতে গেলে, টিম কুক একজন বিস্ময়কর মানুষ!”
এরপর সিএনবিসি’র ‘স্কোয়াক বক্স’ অনুষ্ঠানেও কুকের কাজের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেছেন, “আমি তাকে খুব কাছ থেকে চেনার সুযোগ পেয়েছি। তিনি একজন চমৎকার মানুষ এবং তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন।”
টিম কুক ‘থাকছেন’ নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসাবে
বর্তমানে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে থাকা জন টার্নাস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপলের সিইও’র দায়িত্ব নেবেন। তখন কুক অ্যাপলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে যোগ দেবেন।


















