প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিপ্লব যেমন সম্ভাবনা নিয়ে আসছে, তেমনি হাজারো কর্মীর জন্য তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুঃস্বপ্ন। এআই প্রকল্পে খরচের লাগাম টানতে আগামী মাসেই ১০ শতাংশ বা প্রায় ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে মেটা। একই সাথে হাজার হাজার শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্থগিত করেছে মার্ক জাকারবার্গের এই প্রতিষ্ঠান।
১৩৫ বিলিয়ন ডলারের এআই বাজি
বিবিসি ও রয়টার্সের তথ্যমতে, মেটা চলতি বছর এআই প্রকল্পে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো—এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানটির বিগত তিন বছরের সম্মিলিত ব্যয়ের প্রায় সমান। এই বিপুল অংকের আর্থিক চাপ সামলাতেই এখন কর্মীদের ওপর ছাঁটাইয়ের খড়গ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
জাকারবার্গের সেই ‘পূর্বাভাস’
চলতি বছরের শুরুতেই মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এআই টুল ব্যবহারের ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। তিনি বলেছিলেন, “২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে সেই বছর, যখন এআই নাটকীয়ভাবে আমাদের কাজের ধরন পরিবর্তন করতে শুরু করবে।” জাকারবার্গের মতে, আগে যে কাজের জন্য বিশাল টিমের প্রয়োজন হতো, এখন এআই-এর সহায়তায় একজন কর্মীই তা শেষ করতে পারছেন। এই ‘অতিরিক্ত’ কর্মীবাহিনীকেই এখন ছাঁটাই করার পথে হাঁটছে মেটা।
বিভীষিকাময় কর্মপরিবেশ ও নজরদারি
মেটা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের এআই মডেলগুলোকে আরও উন্নত করতে কর্মীদের কম্পিউটারের কার্যক্রম বা ‘মিথস্ক্রিয়া’ ট্র্যাক এবং লগ করা হবে। চাকরি হারানোর আতঙ্কে থাকা কর্মীরা একে ‘বিভীষিকাময়’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। অনেক কর্মীর মতে, কোম্পানি মানুষের চেয়ে এআই-এর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
টেক দুনিয়ায় ছাঁটাইয়ের মহামারি
কেবল মেটা নয়, এআই-তে বিনিয়োগ বাড়াতে গিয়ে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে:
অ্যামাজন: ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে।
ওরাকল: ১০ হাজারের বেশি কর্মীকে বিদায় জানিয়েছে।
মাইক্রোসফট: হাজার হাজার দীর্ঘমেয়াদী কর্মীকে ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
স্ন্যাপ ও ব্লক: উল্লেখযোগ্য হারে কর্মী কমিয়েছে ছোট এই প্রতিষ্ঠানগুলোও।



















