বিশ্ববাজারে বাজেট-বান্ধব ও পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক স্মার্টফোন দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ‘রেডমি’ আবারও তাদের নতুন ডিভাইস নিয়ে বাজারে ঝড় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ফ্ল্যাগশিপ কিলার ডিভাইস ‘রেডমি টার্বো ৫’ (Redmi Turbo 5) খুব শীঘ্রই ভারতের বাজারে লঞ্চ হতে যাচ্ছে।
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আমাজন ইন্ডিয়াতে (Amazon India) ফোনটির অফিশিয়াল মাইক্রো সাইট লাইভ হওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমী ও গেমারদের মধ্যে ডিভাইসটি নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি মহলে গুঞ্জন চলছে, ফোনটির ডিজাইন ও ভেতরের বেশ কিছু হার্ডওয়্যার ‘পোকো এক্স৮ প্রো ম্যাক্স’ (POCO X8 Pro Max)-এর মতো হওয়ায় এটি মূলত একটি রিব্র্যান্ডেড ভার্সন হতে পারে।
১.৫কে ওলেড ডিসপ্লে ওGreen Mountain চোখের সুরক্ষা
রেডমি টার্বো ৫-এ ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে (1.5K) ওলেড ডিসপ্লে, যা সর্বাধুনিক ‘M10 luminous’ মেটেরিয়ালের ওপর তৈরি। দুর্দান্ত ও স্মুথ স্ক্রলিং অভিজ্ঞতার জন্য এতে রয়েছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। এছাড়া কড়া রোদেও যেন স্ক্রিন পরিষ্কার দেখা যায়, সেজন্য এতে দেওয়া হয়েছে ৩৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস এবং ডলবি ভিশন (Dolby Vision) সাপোর্ট। দীর্ঘক্ষণ গেম খেলা বা মুভি দেখার সময় চোখের ক্লান্তি কমাতে ডিসপ্লেটিতে যুক্ত করা হয়েছে ‘Green Mountain Eye Protection’ প্রযুক্তি। স্ক্রিনের সুরক্ষায় থাকছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই (Gorilla Glass 7i) এবং ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
ডাইমেনসিটি ৮৫০০ আল্ট্রা ও থ্রিডি আইস-সিলড কুলিং
পাওয়ার ইউজার ও হেভি গেমারদের নিখুঁত অভিজ্ঞতা দিতে এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেকের শক্তিশালী ‘Dimensity 8500 Ultra’ চিপসেট। এর সাথে মাল্টিটাস্কিংকে আরও দ্রুত করতে থাকছে সর্বাধুনিক ‘LPDDR5X Ultra RAM’ প্রযুক্তি। টানা হাই-এন্ড গেমিং বা প্রসেসিংয়ের সময় ফোনকে ঠান্ডা রাখতে শাওমি এতে যুক্ত করেছে ‘3D Ice-Sealed Circulating Cooling System’। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ফোনটি চালিত হবে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক ‘Xiaomi HyperOS 3’ দ্বারা।
সনি ৫০ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা
ফটোগ্রাফির জন্য রেডমি টার্বো ৫-এর পেছনে থাকছে ওআইএস (OIS) সুবিধাসহ ৫০ মেগাপিক্সেলের ‘Sony IMX882’ প্রাইমারি সেন্সর সংবলিত ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ। তবে লিক হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে ক্যামেরা সেটআপ কিছুটা পরিবর্তন করে পোকোর মতো ‘50MP Light Fusion 600’ সেন্সরও দেখা যেতে পারে। এছাড়া সেলফি ও ভিডিও কলিংয়ের জন্য ফোনের সামনে থাকছে একটি ২০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা।
মনস্টার ব্যাটারি: ৭৫৬০ এমএএইচ ও ১০০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং
এই স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় এবং মূল আকর্ষণ হচ্ছে এর দানবীয় ৭৫৬০ এমএএইচ (7560mAh) ক্ষমতার ব্যাটারি। এত বড় ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকার কারণে সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে ২ থেকে ৩ দিন এবং টানা গেমিংয়েও দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। বিশাল এই ব্যাটারিকে দ্রুত চার্জ করার জন্য দেওয়া হয়েছে ১০০ ওয়াটের আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট। পাশাপাশি এতে ২৭ ওয়াটের রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তিও রয়েছে, যার মাধ্যমে পাওয়ার ব্যাংকের মতো অন্য যেকোনো স্মার্টফোন বা গ্যাজেট চার্জ করা সম্ভব হবে।
যদিও অফিশিয়াল র্যাম ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের মূল্য এখনো উন্মোচন করা হয়নি, তবে গেমারদের কথা মাথায় রেখে এটি ১২ জিবি ও ১৬ জিবি র্যামের একাধিক স্টোরেজ অপশনে বাজারে আসতে পারে। প্রসেসিং পাওয়ার এবং মনস্টার ব্যাটারির এই কম্বিনেশন মিড-রেঞ্জ বাজেটে অন্য ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।





















