অনলাইন কেনাকাটায় তরুণদের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পণ্য সরবরাহের ধরনও। বিশেষ করে জেনজি প্রজন্ম এখন আগের তুলনায় কম দোকানে যাচ্ছে বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। তারা অনলাইনে কেনাকাটার পর বাসায় ডেলিভারির বদলে পিক আপ ও ড্রপ অফ পয়েন্ট ব্যবহারকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সিএসিআইয়ের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর ফ্যাশন নেটওয়ার্ক।
প্রতিষ্ঠানটির ‘ভয়েস অব দ্য নেশন’ শীর্ষক জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়, ভোক্তাদের জীবনযাপন, বয়সভিত্তিক অভ্যাস ও আচরণে পরিবর্তনের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন ক্রেতারা আরো সহজ ও কম খরচের ডেলিভারি পদ্ধতি চাইছেন। ফলে পিক আপ ড্রপ অফের (পুডো পয়েন্ট) ব্যবহার বাড়ছে।
পুডো পয়েন্ট হলো এমন ব্যবস্থা, যেখানে ক্রেতারা নির্দিষ্ট কোনো দোকান, লকার বা সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিজেদের সুবিধামতো পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন এবং সেখান থেকেই পণ্য ফেরত দিতে পারেন।
জরিপে দেখা গেছে, জেনজি প্রজন্মের মধ্যে এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য বয়সী মানুষের তুলনায় তারা প্রায় দ্বিগুণ বেশি পুডো পয়েন্ট ব্যবহার করেন।
তথ্য অনুযায়ী, জেনজিদের ৩৯ শতাংশ নিয়মিত পিক আপ ও ড্রপ অফ পয়েন্ট ব্যবহার করেন। অন্য বয়সী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এ হার ২৩ শতাংশ। এখন তরুণদের কাছে সুবিধা, সময় বাঁচানো ও কম খরচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জেনজি প্রজন্ম দোকানে গিয়েও আগের তুলনায় কম কেনাকাটা করছেন। মাত্র ৫৪ শতাংশ জেনজি নিয়মিত সরাসরি দোকানে যান। অন্যদিকে বেশি বয়সী ক্রেতাদের মধ্যে এ হার ৭৬ শতাংশ।
সিএসিআই বলছে, শুধু অনলাইন কেনাকাটাই নয়, জীবনযাপনের ধরনও এ পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। জরিপে দেখা গেছে, জেনজি কর্মীরা জেনএক্স ও বেবি বুমার প্রজন্মের তুলনায় অফিসে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি সময় কাটান। ফলে সপ্তাহজুড়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়। কখনো অফিসে, কখনো বাসায় থাকতে হয়। এ কারণে বাসায় পণ্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কারণ সবসময় গ্রাহককে বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না।
সিএসিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পুডো পদ্ধতি প্রধান ডেলিভারি ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে। তবে ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে এখনো সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে খরচ। জরিপে অংশ নেয়া ৮৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ডেলিভারি পদ্ধতি বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে খরচই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এর পরই গুরুত্ব পেয়েছে বিশ্বাসযোগ্যতা। ৬৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা এমন ডেলিভারি পদ্ধতি চান, যেটির ওপর ভরসা করা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়া এবং আবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণেও তরুণদের মধ্যে নমনীয় ডেলিভারি পদ্ধতির চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে যারা ভাড়া বাসায় থাকেন বা নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করেন, তাদের কাছে পুডো ব্যবস্থা বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠছে। কারণ এতে করে বাসায় ডেলিভারি নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন পড়ে না।
সিএসিআইয়ের লজিস্টিকস সলিউশন বিভাগের পরিচালক পল ডসি বলেন, ‘গ্রাহকের আচরণ ও তার কারণ বুঝতে পারলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের পরিবর্তনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারবে। এতে খরচ কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।’





















