স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন-ডিভাইস এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, প্রসেসরের ওপর চাপও ততটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই অতিরিক্ত চাপের কারণে ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো দ্রুত গরম হয়ে পারফরম্যান্স ড্রপ বা ‘থার্মাল থ্রটলিং’ এর শিকার হয়। এই চিরচেনা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটির অন্দরমহলের খবর- ভবিষ্যতের গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা এবং গ্যালাক্সি এস২৮ আল্ট্রা মডেলে ফোন ঠান্ডা রাখার জন্য রেফ্রিজারেটর বা গেমিং পিসির মতো ‘অ্যাক্টিভ লিকুইড কুলিং’ (তরল শীতলীকরণ) ব্যবস্থা যুক্ত করার গবেষণা চলছে।
স্যামসাং-এর ‘প্রোডাকশন টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর একটি বিশেষ দল বর্তমানে এই অ্যাক্টিভ কুলিং সলিউশনের ওপর কাজ করছে। প্রযুক্তিটি ২০২৭ সালের গ্যালাক্সি এস২৭ সিরিজেই দেখা যাবে, নাকি এর জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে—তা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে চলছে জোর গুঞ্জন।
ফ্যান নাকি তরল পাইপ: স্যামসাং-এর ল্যাব টেস্ট
ল্যাব ডিরেক্টর পার্ক মিন জানিয়েছেন, তাদের গবেষক দল মূলত দুটি প্রযুক্তির মূল্যায়ন করছে—একটি হলো ফ্যান-ভিত্তিক এয়ার কুলিং এবং অন্যটি হলো ইন্টারনাল সার্কুলেটিং লিকুইড কুলিং।
তবে পরীক্ষার পর স্যামসাং লিকুইড কুলিং সিস্টেমটিকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ ফোনের ভেতর ফ্যান ঘুরলে যে শব্দ তৈরি হয় তা ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করতে পারে, প্লাস ফ্যানের কারণে ফোনের ওজনও অনেক বেড়ে যায়। অন্যদিকে লিকুইড কুলিং ব্যবস্থায় চিপসেটের সাথে সরাসরি যুক্ত একটি সিলড বা অবরুদ্ধ লুপের ভেতর দিয়ে বিশেষ তরল প্রবাহিত করা হবে, যা কোনো শব্দ ছাড়াই ফোনের ভেতরের অতিরিক্ত তাপ দ্রুত শুষে নেবে।
গেমারদের প্রযুক্তি এখন সাধারণ গ্রাহকদের হাতে
স্মার্টফোনে লিকুইড ও এয়ার কুলিংয়ের এই হাইব্রিড প্রযুক্তিটি বর্তমানে কেবল নুবিয়ার মতো ডেডিকেটেড গেমিং ফোনেই দেখা যায়। স্যামসাং এই রেসিং-গ্রেড কুলিং প্রযুক্তি সাধারণ ফ্ল্যাগশিপ ফোনে নিয়ে আসার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় যে—ভবিষ্যতের গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা বা এস২৮ আল্ট্রা-র ব্যবহারকারীরা যখন একটানা ভারী এআই কাজ বা হাই-এন্ড গেমিং করবেন, তখনো ফোনটি তার সর্বোচ্চ বা পিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবে।
স্যামসাং তাদের বর্তমান প্রসেসর ‘এক্সিনস ২৬০০’-এ প্রথমবারের মতো অভিনব “হিট পাস ব্লক” প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা গ্যালাক্সি এস২৬ এবং এস২৬ প্লাস মডেলে দারুণ সফল হয়েছে। এটি মূলত চিপের ওপর সরাসরি বসানো একটি তামার হিটসিঙ্ক।
তবে স্যামসাং কর্তৃপক্ষ ভালো করেই জানে যে, আগামী দিনগুলোতে অন-ডিভাইস এআই-এর গ্রাফিক্স ও কম্পিউটেশন ক্ষমতা যেভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়বে, তা কেবল এই নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ হিটসিঙ্ক দিয়ে সামলানো সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই জুলাই ২২ (সম্ভাব্য লঞ্চিং ডেট) বাজারে আসতে যাওয়া গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রার হাত ধরে হয়তোবা স্মার্টফোনের কুলিং সিস্টেমে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে স্যামসাং!




















