চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ এর বিরুদ্ধে প্রতি বছর প্রায় শত কোটি টাকার পৌর বিজ্ঞাপন কর ফাঁকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের তদন্তে এই বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগের মুখে থাকা প্রতিষ্ঠান দুটিকে বারবার নোটিশ পাঠানো হলেও তারা কোনো সমঝোতায় আসেনি। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীর হাজার হাজার বিকাশের দোকান, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় এবং বিভিন্ন স্থাপনায় বিশাল আকৃতির ব্যানার, সাইনবোর্ড এবং দৃষ্টিনন্দন বিজ্ঞাপনী কাঠামো প্রদর্শন করা হচ্ছে। অথচ এই বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞাপনের বিপরীতে চসিকে কোনো নিয়মমাফিক কর পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি।
চসিকের রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, “বিকাশের ভলিউম এত বেশি যে, সেখানে আনুমানিক একটি হিসাব দেওয়া সম্ভব। গত কয়েক বছরের স্টেটমেন্টে আমরা দেখেছি, তারা কেবল একটি নামমাত্র সিলভার অ্যাডভার্টাইজিংয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর মাত্র ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কর পরিশোধ করেছে, যা প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য এবং অপ্রতুল।”
চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নগরের প্রতিটি গলিতে এবং প্রধান সড়কগুলোতে লক্ষাধিক বিকাশের বুথ ও বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী রয়েছে।
প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে ২০০টি বিকাশের দোকান বা বুথ ধরলে মোট দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় কয়েক হাজার। প্রতি দোকানে একাধিক ব্যানার ও বিজ্ঞাপনের বিজ্ঞাপনী কর হিসাব করলে প্রতি বছর চসিকের প্রাপ্য করের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা। বিগত ৪-৫ বছরের বকেয়াসহ হিসাব করা হলে এই ফাঁকির পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই কর ফাঁকির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ নিরীক্ষা বা রি-অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন কর নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেয়র স্পষ্ট ভাষায় তাঁর অবস্থান জানিয়ে বলেন, “বিকাশ এবং নগদ আমাদের ট্যাক্স ঠিকমতো পে করছে না। তারা প্রচুর পরিমাণে কর ফাঁকি দিচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার এই ব্যাপারে আমরা কাউকে কোনো ছাড় দিতে রাজি নই। রি-অ্যাসেসমেন্ট করে আমরা তাদের কর নির্ধারণ করব এবং নির্ধারিত কর তাদের পে করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্পোরেশনের বিধি অনুযায়ী বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে এই বিজ্ঞাপন কর দেওয়া বাধ্যতামূলক। চসিকের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিকাশকে অনতিবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়ে চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হোক। এই সময়ের মধ্যে তারা কেন্দ্রীয়ভাবে চসিকের সাথে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করলে, চসিকের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তাদের সকল বুথ, এজেন্ট এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।




















