বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি ২০টি জে-টেন-সিই (J-10CE) মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের এই প্যাকেজে যুদ্ধবিমান ছাড়াও লজিস্টিকস, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহ করা হতে পারে। আধুনিক এই যুদ্ধবিমানে এইসা (AESA) রাডার ও উন্নত নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক কমব্যাট সিস্টেম রয়েছে।
এদিকে, এই সম্ভাব্য চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে, বিশেষ করে সংবেদনশীল সিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের এই প্রতিরক্ষা নীতি এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (BRI) প্রভাব অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের উত্তর সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত সংবেদনশীল সিলিগুড়ি করিডোর (চিকেন’স নেক) নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে চীনের এই প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো বিনিয়োগ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (BRI) অংশ এবং একটি বৃহত্তর কৌশলগত প্রভাব বলয় তৈরির প্রয়াস। ফলে ভারত এটিকে কেবল একটি সাধারণ সার্বভৌম প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে দেখবে না, যা আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।




















