দেশের গবেষক ও তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের ফেলোদের গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও লব্ধ জ্ঞান মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্ম সচিব একেএম শওকত আলম মজুমদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ড. সামিনা আহমেদ। এছাড়া সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের ফেলোরা অংশগ্রহণ করেন।
সচিব বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশের অর্থ ও প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ নেই। বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ মানবসম্পদকে দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে
গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরো এগিয়ে যাবে।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এআই পরামর্শ দিতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেয় মানুষ। আর সেই মানবসম্পদ বাংলাদেশে রয়েছে।’
গবেষণার সঙ্গে বাজারের সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘গবেষণার ফলাফলকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণা শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, সেটিকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর ও প্রয়োগযোগ্য করতে হবে।’
তিনি গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘গবেষণার শুরুতেই এর বাস্তব প্রয়োগ, সম্ভাব্য প্রভাব এবং পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে। গবেষণার ফলাফল বাজারে পৌঁছাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।’
রফতানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, ‘বর্তমানে দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’




















