টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসকে পেছনে ফেলে দেশটির সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির জায়গায় স্থান করে নিয়েছে চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স। দুই দশক আগে ঋণের বোঝায় প্রায় দেউলিয়া হতে যাওয়া কোম্পানিটির জন্য এটি একটি বিশাল অর্জন বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উত্থানে কারণেই এসকে হাইনিক্সের এ ব্যবসায়িক উত্থান সম্ভব হয়েছে। খবর রয়টার্স।
বর্তমানে এক্সকে হাইনিক্স এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের প্রধান সরবরাহকারী। এনভিডিয়া ও অ্যালফাবেটের গুগলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ে। ফলে কোম্পানিটির মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ হাজার ৮০ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মাধ্যমে এক্সকে হাইনিক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান মেমোরি চিপ নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অন্যদিকে একই দিনে স্যামসাংয়ের শেয়ারদর দশমিক ১৪ শতাংশ কমে যায়। ফলে অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার বাদে স্যামসাংয়ের বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন।
২০০০ সালের পর এ প্রথম স্যামসাং দেশটির শীর্ষস্থান হারাল। তবে স্যামসাং এক বিবৃতিতে জানায়, বাজার মূলধন গণনায় অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সেটি হিসাব করলে স্যামসাংয়ের বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ হাজার ২৪৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ চিপের চেয়ে এখন বিশেষায়িত মেমোরি চিপের চাহিদা অনেক বেশি। চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য উন্নত এআই মডেল পরিচালনার জন্য এসব চিপ এখন অপরিহার্য অবকাঠামো হয়ে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কাস্টমাইজড বা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি এআই মেমোরির আগমন এ শিল্পের অর্থনীতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এসকে হাইনিক্সের মনোযোগ মূলত মেমোরি চিপ তৈরিতে। অন্যদিকে স্যামসাং মেমোরি চিপের পাশাপাশি লজিক চিপ এবং স্মার্টফোন ও টিভির মতো কনজিউমার ইলেকট্রনিকসও তৈরি করে।
এসকে হাইনিক্সের শীর্ষস্থানে পৌঁছানো দক্ষিণ কোরিয়ার করপোরেট ইতিহাসের অন্যতম বড় সফলতার গল্প বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০০২ সালের দিকে কোম্পানিটি তীব্র দেনার দায়ে জর্জরিত ছিল। আগ্রাসী ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের কারণে তখন প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিল এক্সকে হাইনিক্স। কোম্পানিটিকে মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রনের কাছে বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়। ২০০৩ সালে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমে ১৩৫ ওনে নেমে যায়। এরপর প্রায় এক দশক ধরে কোম্পানিটি ঋণদাতাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের বাজারে উত্থান-পতন লেগেই ছিল। ২০২৩ সালেও মন্দার কারণে চিপের দাম মারাত্মকভাবে কমে যায়। ওই বছর এসকে হাইনিক্স ৭ দশমিক ৭৩ ট্রিলিয়ন ওন বার্ষিক পরিচালন লোকসান বা ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
তবে ২০২৪ সাল থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি জায়ান্টরা এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করে। ফলে চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। এর ওপর ভর করে ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ২৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ওন বার্ষিক পরিচালন মুনাফা অর্জন করে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে।




















