স্মার্টফোনের দুনিয়ায় বড়সড় ধামাকা করতে চলেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। সব ঠিক থাকলে আর মাত্র মাস দুয়েকের মধ্যেই বাজারে আসতে চলেছে অ্যাপলের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দুটি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস— আইফোন ১৮ প্রো (iPhone 18 Pro) এবং অ্যাপলের ইতিহাসের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন, যার সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আলট্রা’। বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের ঘাটতি এবং চলমান অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে এই প্রিমিয়াম ফোন দুটির চড়া দাম গ্রাহকদের পকেটে কতটা টান ফেলবে, তা নিয়েই এখন প্রযুক্তিবিশ্বে জোর চর্চা চলছে।
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন: ডিজাইন ও ফিচার
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি মূলত একটি বইয়ের মতো ডিজাইনের হতে যাচ্ছে। ভাঁজ করা অবস্থায় এটি গুগলের পিক্সেল ফোল্ডের চেয়ে কিছুটা চওড়া কিন্তু বেশ কমপ্যাক্ট দেখাবে। এই ফোনে থাকছে:
ডিসপ্লে: একটি ৫.৫ ইঞ্চির বাইরের কভার ডিসপ্লে এবং ভাঁজ খুললে মিলবে একটি বিশাল ৭.৮ ইঞ্চির ভেতরের প্রাইমারি ডিসপ্লে।
নিরাপত্তা ও সফটওয়্যার: ফোল্ডেবল ডিজাইনে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথাগত ফেস আইডির বদলে পাওয়ার বা সাইড বাটনে ফিরতে পারে অ্যাপলের চিরচেনা ‘টাচ আইডি’। তবে এর মূল চমক থাকবে এর কাস্টমাইজড সফটওয়্যারে।
সম্ভাব্য দাম: প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি হতে চলেছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফোন। আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ টাকার উপরে) হতে পারে।
আইফোন ১৮ প্রো: হার্ডওয়্যারে দুর্দান্ত আপগ্রেড
ফোল্ডেবল ফোনটি লাইমলাইটে থাকলেও ট্র্যাডিশনাল প্রিমিয়াম ইউজারদের মূল আকর্ষণ থাকবে আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেল দুটির ওপর। বাহ্যিক ডিজাইনে খুব বড় পরিবর্তন না এলেও এর ভেতরের হার্ডওয়্যারে থাকছে দুর্দান্ত সব আপগ্রেড:
ডিসপ্লে ও প্রসেসর: উন্নত ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত করতে এতে ব্যবহার করা হচ্ছে LTPO+ প্রযুক্তির ডিসপ্লে এবং অ্যাপলের নিজস্ব নেক্সট-জেনারেশন A20 প্রসেসর।
লুক ও ডিজাইন: হালকা নীল, ডার্ক চেরি ও ডার্ক গ্রের মতো আকর্ষণীয় কালার অপশনে ফ্রস্টেড সিরামিক শিল্ড ব্যাক প্যানেল সহ বাজারে আসতে পারে এই ফ্ল্যাগশিপ সিরিজটি।
চিপ সংকট ও টিম কুকের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত
নতুন আইফোনের ফিচারগুলো যতটা আনন্দ দিচ্ছে, এর দামের গ্রাফ ঠিক ততটাই কপালে ভাঁজ ফেলছে আমজনতার। বিশ্বজুড়ে এআই সার্ভার ও ডিভাইসের কারণে মেমোরি চিপের সংকট আরও এক বছর স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোদ অ্যাপল সিইও টিম কুকও আগামী ডিভাইসগুলোর দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম প্রো-সিরিজের দাম আগের প্রজন্মের তুলনায় অন্তত ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। চড়া দাম, মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে অ্যাপলের এই দুই বাজি ক্রেতাদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





















