অ্যাপলের বহুপ্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডেবল (ভাঁজযোগ্য) আইফোন বাজারে আসার পর উৎপাদন জটিলতার কারণে শুরুতেই তীব্র সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় আড়াই হাজার ডলার মূল্যের এই ‘আল্ট্রা’ ফোনের চাহিদা আকাশচুম্বী হলেও প্রথম প্রান্তিকে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক ডিভাইস বাজারে ছাড়তে পারবে অ্যাপল।
বিখ্যাত প্রযুক্তি বিশ্লেষক মিং-চি কুও’র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কুও বলেছেন, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষদিকে ফোনটি বাজারে আসার পর শুরুতে অ্যাপল কেবল ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ডিভাইস তৈরি করতে পারে। তবে এই প্রাথমিক ধাক্কা পার হওয়ার পর অ্যাপল তাদের উৎপাদন গতি বাড়াবে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট বাজারে সরবরাহ করতে পারবে।
শুরুতে এই ধীরগতির মূল কারণ আইফোন আল্ট্রা’র উদ্ভাবনী ফোল্ডিং ডিজাইন, যার কারণে উৎপাদন শুরুর প্রথম দিকে ফোনটিকে বেশ কিছু জটিলতার মুখে পড়তে হবে। এই পরিস্থিতিটি অনেকটাই ২০১৭ সালের ‘আইফোন এক্স’ বাজারে আসার সময়ের মতো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই সময়েও অল-স্ক্রিন ওএলইডি ডিসপ্লে এবং ‘ট্রু-ডেপথ ফেইসআইডি’ ক্যামেরার মতো নতুন প্রযুক্তির কারণে শুরুতে ফোনটির উৎপাদন বেশ ধীরগতির ছিল।
মোবাইল অপারেটর ও রিসেলারদের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে কুও জানান, বিপুল দাম হওয়ার পরও ২০২৬ সালের শেষদিকে বিশেষ এই আইফোন মডেলের চাহিদা থাকবে তুঙ্গে। তার অনুমান, প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনটি পুরোপুরি স্টক-আউট হয়ে যাবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ফোনটি হাতে পাওয়ার জন্য ক্রেতাদের ছয় সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
নিজের নোটে কুও লিখেছেন, শুরুতে সীমিত সরবরাহ ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে বাজারে আসার পর অল্প সময়ের জন্য ফোনটি কালোবাজারে বা বাড়তি দামে পুনরায় বিক্রির (রিসেল) প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
অ্যাপল এখনও এই ফোল্ডএবল ফোন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু না বললেও, তাদের সাম্প্রতিক আইওএস ২৭ (iOS 27) বিটা সংস্করণটি এই ফোনের আগমন যে একেবারে সন্নিকটে, সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। এই নতুন সফটওয়্যারে ‘ফোল্ডস্টেইজ’ ও ‘অ্যান্জেলডিগ্রিস’-এর মতো কিছু টেকনিক্যাল টার্মের দেখা মিলেছে, যার পাশাপাশি মূল ডিভাইসে মোট কতটি বিল্ট-ইন ডিসপ্লে রয়েছে তা নির্ধারণের একটি ভেরিয়েবলও যোগ হয়েছে।
গুঞ্জন রয়েছে, ‘আইফোন আল্ট্রা’ বা ‘আইফোন ফোল্ড’ নামের এই ফোনে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং একটি ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকবে, যা আইপ্যাড মিনি’র চেয়ে কিছুটা ছোট। ভাঁজ করা অবস্থায় ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭’-এর তুলনায় এই আইফোনটি কিছুটা বেশি কোনা আকৃতির হতে পারে, যার ফলে ভাঁজ খুললে তা বেশ চওড়া দেখাবে। ভাঁজের ওপর চাপ কমাতে এতে লেজার দিয়ে তৈরি মেটাল সাপোর্ট প্লেটসহ নমনীয় ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হবে, যাতে স্ক্রিনের ভাঁজটি প্রায় অদৃশ্য থাকে।





















