মাত্র কয়েক দিন আগেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল যে, অ্যাপল তাদের ডিভাইসের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চ্যাংক্সিন মেমোরি টেকনোলজিস’ এবং ‘ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস’-এর তৈরি র্যাম ও ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে। এবার নতুন প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অ্যাপল ইতিমধ্যেই সিএক্সএমটির তৈরি ডির্যাম চিপের বাস্তব পরীক্ষা বা টেস্টিং শুরু করে দিয়েছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে একটি বড় চমক ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাপল চীনের তৈরি এই র্যামগুলো বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করা আইফোনে ব্যবহার করবে না; বরং এগুলো কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হওয়া ডিভাইসগুলোর (আইফোন, আইপ্যাড বা ম্যাকবুক) জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
অ্যাপলের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থা বা রাজনৈতিক ক্ষোভের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা। কারণ, মার্কিন সরকার ইতিমধ্যেই সিএক্সএমটি এবং ওয়াইএমটিসি—উভয় চীনা কোম্পানিকেই তাদের বিতর্কিত ‘এনটিটি লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমেরিকার দাবি, এই চীনা মেমোরি নির্মাতাদের সাথে চীনের সামরিক বাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে।
আইনগতভাবে এই কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসা করা বা যন্ত্রাংশ কেনা সম্পূর্ণ অবৈধ না হলেও, শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপলের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে বেশ সংবেদনশীল একটি বিষয়। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপল যদি এই চীনা র্যাম কেবল চীনের বাজারে বিক্রিত ডিভাইসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো কিছুটা নমনীয় বা শিথিল মনোভাব দেখাতে পারে। অবশ্য পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।
অ্যাপলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক বাজারে চলমান তীব্র র্যাম সংকট একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারগুলোর অভূতপূর্ব সম্প্রসারণের কারণে স্যামসাং বা এসকে হাইনিক্সের মতো নন-চীনা নির্মাতাদের উৎপাদিত মেমোরি চিপের সিংহভাগই ডেটা সেন্টারগুলো গিলে খাচ্ছে। ফলে সাধারণ ডিভাইসের জন্য চিপের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তবে মেমোরির জন্য চীনের বাজারের ওপর অ্যাপলের নজরদারি এবারই প্রথম নয়; এর আগে ২০২২ সালেও অ্যাপল আইফোনের জন্য ওয়াইএমটিসি-এর ‘ন্যান্ড’ ফ্ল্যাশ চিপের গুণগত মান মূল্যায়ন বা পরীক্ষা করেছিল। অর্থাৎ, কুপারটিনোর এই টেক জায়ান্ট দীর্ঘদিন ধরেই চীনের মেমোরি বাজারের ওপর কড়া নজর রাখছে।





















