রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের স্মার্টফোন বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘Mobile Buzz BD’ (মোবাইল বাজ বিডি)-এর বিরুদ্ধে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রতারণামূলক ভুয়া ভার্সনের হ্যান্ডসেট দেওয়া, দাম নিয়ে জালিয়াতি এবং পরবর্তীতে অফিশিয়াল রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি থাকার পরও গ্রাহককে হয়রানি ও অপদস্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ক্রেতা ইশতিয়াক আহমেদ লিখন প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে রেডমি নোট ১৪ প্রো প্লাস (Redmi Note 14 Pro+) কিনতে গিয়ে এই চরম জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মূল চিত্রটি নিচে তুলে ধরা হলো:
গত ৩০ জুন, ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ইশতিয়াক আহমেদ লিখন মোবাইল বাজ বিডি’র যমুনা ফিউচার পার্কের আউটলেটে যান। দোকানে ফোনটির দাম প্রথমে ৩১,৮০০ টাকা চাওয়া হলেও গ্রাহক তাদের ওয়েবসাইটে দাম ৩০,৫০০ টাকা দেখাচ্ছে বলে জানান। তখন শপ থেকে দাবি করা হয় যে ফোনের দাম বেড়েছে কিন্তু ওয়েবসাইট আপডেট করা হয়নি। পরবর্তীতে আগের রাতে (২৯ জুন) তাদের কাস্টমার সাপোর্টের বায়েজিদ নামের এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলার রেফারেন্স দিলে তারা ৩০,৫০০ টাকায় ফোনটি দিতে রাজি হয়।
প্রতারণার এখানেই শেষ নয়; মাত্র দুদিন পর ২ জুলাই শপে পুনরায় একই ফোনের দাম জিজ্ঞেস করলে তারা ৩৩,০০০ টাকার বেশি দাবি করে। অথচ তার ঠিক পরের দিন (৩ জুলাই) তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক মেসেঞ্জারে দাম জানতে চাওয়া হলে তারা আবারও ৩০,৫০০ টাকা উল্লেখ করে গ্রাহকদের সাথে স্পষ্ট মূল্য জালিয়াতি করে।
গ্রাহক শপটিতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘চাইনিজ ভ্যারিয়েন্ট’-এর ইনট্যাক্ট ফোন কিনতে চেয়েছিলেন এবং শপের কর্মীরাও তাকে ইনট্যাক্ট ও চায়না ভার্সন বলেই ফোনটি হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাকে ‘চাইনিজ গ্লোবাল’ নামের একটি অননুমোদিত মডিফাইড ফোন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রযুক্তি বাজারে মূলত ‘চাইনিজ গ্লোবাল’ বলতে অফিশিয়াল কোনো ভ্যারিয়েন্ট হয় না। এটি মূলত চাইনিজ সংস্করণের ফোনের বুটলোডার আনলক করে জোরপূর্বক ইন্ডিয়ান রম (Indian ROM) ফ্ল্যাশ করার একটি থার্ড-পার্টি প্রক্রিয়া।
ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ না থাকায় শপে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাসায় এসে ঘাটাঘাটি করে দেখা যায়, ফোনের বক্সের মডেল নম্বরের শেষে চাইনিজ সংস্করণের জন্য ‘C’ থাকার কথা থাকলেও ফোনে ‘G’ লেখা রয়েছে। এছাড়া ওএস (OS) সংস্করণে ‘CNXM’-এর পরিবর্তে ‘INXM’ (ইন্ডিয়ান রম) দেওয়া রয়েছে। এমনকি ফোনের সিকিউরিটি অ্যাপে ডিভাইসটির ফার্স্ট ইউজ বা প্রথম ব্যবহার ‘এপ্রিল ২০২৬’ দেখাচ্ছিল, যা ফোনটি যে আগেই ব্যবহৃত বা রিফারবিশড ছিল, তা প্রমাণ করে।
পছন্দের চাইনিজ সংস্করণের পরিবর্তে থার্ড-পার্টি রম যুক্ত এই ভুয়া ফোনটি দেওয়ার ফলে গ্রাহক ক্যামেরায় মেজর ডাউনগ্রেড বা ব্লারিনেস (ভিডিও ও ছবিতে চরম ঝাপসা হওয়া) এবং কড়া হিটিং (অতিরিক্ত গরম হওয়া) ইস্যু ফেস করতে থাকেন। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, এই ধরনের জোরপূর্বক রম পরিবর্তনের ফলে ফোনটিতে ভবিষ্যতে অফিশিয়াল কোনো সিকিউরিটি প্যাচ বা সফটওয়্যার আপডেট আসার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
ফোনের ৭ দিনের অফিশিয়াল রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি পিরিয়ডের মধ্যে (৭ জুলাই) ভুক্তভোগী গ্রাহক এই সকল সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির প্রমাণসহ শপে যান। কিন্তু মোবাইল বাজ বিডি’র কর্মীরা ক্যামেরার স্পষ্ট ঝাপসা ভিডিও এবং রমের গরমিল দেখার পরও কোনো সমস্যা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো তারা দাবি করে যে ফোন বিক্রির সময়ই তারা ‘চাইনিজ গ্লোবাল’ বলে বিক্রি করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
একপর্যায়ে দোকানের দায়িত্বরত এক সিনিয়র কর্মী গ্রাহকের সাথে অত্যন্ত বেয়াদবিপূর্ণ ও আগ্রাসী আচরণ শুরু করেন। তিনি রিপ্লেসমেন্ট দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন এবং দিন গণনার ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনকেও কূটতর্কের মাধ্যমে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রাহক ও তার বন্ধু পরিস্থিতি ভিডিও করার চেষ্টা করলে দোকানের কর্মীরা চড়াও হতে উদ্যত হয়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা সেখানে চরম নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন। কোনো সমাধান না দিয়ে গ্রাহককে চরম অপমান ও অপদস্ত করে শপ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এই জালিয়াতি ও হেনস্থার বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সাধারণ ক্রেতাদের এই ‘ধান্দাবাজ বিডি’ তথা মোবাইল বাজ বিডি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


















