কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা যখন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে, তখন প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে গেলেও গুগল এখনো তাদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন এআই মডেল উন্মুক্ত করতে পারেনি।
চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য হালকা সংস্করণের একটি মডেল প্রকাশ করা হলেও, আরও উন্নত সংস্করণটি জুন মাসে সবার জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নতুন মডেলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সম্মেলনের আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই জানিয়েছিলেন, উন্নত মডেলটি এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, এটি আগের সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নত এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জুন মাসেই সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তবে জুলাই মাসেও মডেলটি প্রকাশ না হওয়ায় প্রযুক্তি বিশ্বে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলম্বের কারণে গুগলের প্রকৌশলী, এআই গবেষক এবং ব্যবস্থাপকদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই খাতে দীর্ঘসূত্রতা গুগলকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে।
ম্যাশেবল এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-এ বিষয়ে গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন মডেলটি এখনো বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নত সংস্করণের আরও কয়েকটি মডেল এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজও চলছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের হাতে তুলে দিতে চায় তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মডেলটি প্রকাশে বিলম্বের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, গুগলের বিশাল পরিসরের বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সঙ্গে নতুন এআই প্রযুক্তির সমন্বয় করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নতুন এআই মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গুগল কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
এদিকে গুগলের অপেক্ষার মধ্যেই প্রতিযোগীরা একের পর এক নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে। অ্যানথ্রপিক তাদের নতুন প্রজন্মের এআই মডেল প্রকাশ করেছে, ওপেনএআই এনেছে আরও উন্নত সক্ষমতার নতুন মডেল। একই সময়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কম খরচের নতুন উন্মুক্ত এআই মডেল প্রকাশ করে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনায় এসেছে।
ফলে এআই খাতে প্রতিযোগিতা এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগল যত বেশি সময় নেবে, নতুন মডেলটির প্রতি ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশাও তত বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের সমকক্ষ হতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উন্নত কর্মক্ষমতা, নির্ভুলতা এবং নতুন সুবিধা নিয়ে বাজারে আসতে হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডার, শক্তিশালী ক্লাউড অবকাঠামো এবং শতকোটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর কাছে সরাসরি এআই পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও, নতুন মডেল উন্মোচনে বিলম্ব গুগলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এখন প্রযুক্তি বিশ্বের নজর গুগলের পরবর্তী ঘোষণার দিকে-কবে আসবে তাদের নতুন এআই মডেল এবং সেটি প্রতিযোগীদের টেক্কা দিতে কতটা সক্ষম হবে।
প্রসঙ্গত-নতুন মডেলটি উন্মোচিত হলে ব্যবহারকারীরা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও উন্নত মানের এআই সেবা পাওয়ার আশা করছেন। পাশাপাশি জটিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রোগ্রামিং, তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা, ছবি ও ভিডিও-সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা আগের সংস্করণের তুলনায় আরও বাড়তে পারে। এছাড়া গুগলের বিভিন্ন সেবা, যেমন সার্চ, জি-মেইল, ডকস ও অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক সুবিধাগুলোতে আরও উন্নত এআই অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




















