আসন্ন নতুন আইফোনের জন্য তুলনামূলক কম দামে ডিসপ্লে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান দুই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এবং এলজি-কে চাপের মুখে ফেলেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইলেকট্রিক’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল তাদের ভবিষ্যৎ ফ্ল্যাগশিপ ফোন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে (iPhone 18 Pro Max) আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ডিসপ্লে প্যানেল ব্যবহার করতে যাচ্ছে। নতুন এই ওএলইডি (OLED) স্ক্রিনে ব্যবহার করা হবে ‘এম১৬’ (M16) নামের একটি উন্নতমানের জৈব যৌগ, যা ডিসপ্লের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিখুঁত রঙ প্রদর্শন নিশ্চিত করবে।
দাম কমানোর অভূতপূর্ব দাবি
সাধারণত নতুন কাঁচামাল ও জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে উন্নত প্রযুক্তির ডিসপ্লে প্যানেলের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ফলে নতুন ডিসপ্লের দাম বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো পথে হাঁটছে অ্যাপল।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের প্রতিটি প্রিমিয়াম ওএলইডি প্যানেলের জন্য ৭০ ডলার মূল্য নির্ধারণ করতে চাইছে। অথচ এর আগের সংস্করণগুলোর ক্ষেত্রে দাম দেওয়ার হার ছিল বেশ চড়া:
আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স: প্রতি ডিসপ্লে প্যানেলে ১০০ ডলারের বেশি পরিশোধ করেছিল অ্যাপল।
আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স: প্রতি ডিসপ্লে প্যানেলের দর ছিল প্রায় ৮০ ডলার।
মূল কারণ: বৈশ্বিক ‘চিপফ্লেশন’
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ বা র্যামের টানা মূল্যবৃদ্ধি বা ‘চিপফ্লেশন’-এর কারণে আইফোনের মোট উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ফোনের চূড়ান্ত বিক্রিযোগ্য দাম বা রিটেইল প্রাইস সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে রাখতে এবং নিজেদের লাভের মার্জিন ঠিক রাখতে অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম কমানোর কৌশল নিয়েছে অ্যাপল।
আর এই খরচ সামাল দেওয়ার বলি হতে হচ্ছে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। চিপের বাড়তি দাম সমন্বয় করতে অ্যাপলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে ডিসপ্লে ও ক্যামেরা মডিউল উৎপাদকদের ওপর।
প্যানেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে নেমে এলে অ্যাপলের বিশাল সাপ্লাই চেইনে থাকা স্যামসাং ডিসপ্লে ও এলজি ডিসপ্লের মুনাফায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা।




















