ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রোবোটিকস প্রতিযোগিতা ‘রোবোসাব ২০২৬’-এ অষ্টম স্থান অর্জন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অটোনমাস আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস দল ‘ব্র্যাকইউ ডুবুরি’। এটি বাংলাদেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এইউভি) প্রস্তুতকারী দল। এ বছর বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া তিনটি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানও অর্জন করেছে ব্র্যাকইউ ডুবুরি।
রোবোসাব হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা ও মর্যাদাপূর্ণ অটোনমাস আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের ‘রোবোনেশন’ প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে। এ বছরের মূল পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভিনের উলেট অ্যাকুয়াটিকস সেন্টারে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৮টি দলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্র্যাকইউ ডুবুরি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটি এবং ডিউক ইউনিভার্সিটির মতো খ্যাতনামা বহু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে এই গৌরব অর্জন করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রোবোটিকস সংগঠন রোবোনেশন প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এবারের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভিনের উলেট অ্যাকুয়াটিকস সেন্টারে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ৫৮টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্র্যাকইউ ডুবুরি। প্রতিযোগিতায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটি ও ডিউক ইউনিভার্সিটির মতো খ্যাতনামা বহু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে এই গৌরব অর্জন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল।
পানির নিচে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম দুটি স্বয়ংক্রিয় রোবট নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ব্র্যাকইউ ডুবুরি। দলের মূল রোবট ‘ডুবুরি ৪.৫’ তাদের ডুবোযান প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ। টানা কয়েক বছরের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছিল তুলনামূলক ছোট ও দ্রুতগতির রোবট ‘ডুবোমিনি ২.০’, যা মূল ডুবোযানটির সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
পানির নিচের মিশনের পাশাপাশি অন্যান্য কারিগরি বিভাগেও ভালো করেছে দলটি। টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশনে ষষ্ঠ, টেকনিক্যাল ডিজাইন রিপোর্টে ১১তম এবং টিম ভিডিও বিভাগে ১২তম স্থান অর্জন করে ব্র্যাকইউ ডুবুরি।
প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্র্যাকইউ ডুবুরি দলের মুখপাত্র তাহিরাহ জান্নাত মীম বলেন, “প্রতিযোগিতার এই পর্যায়ে পৌঁছানো আমাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ভিসা জটিলতা, যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে দলের সদস্যদের অসুস্থতা পর্যন্ত নানা বাধা পেরিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবে বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিশ্রমের ফল পাওয়ার পর পেছনের সব কষ্টই সার্থক মনে হচ্ছে।”
ব্র্যাকইউ ডুবুরির এই যাত্রায় অফিশিয়াল সাপোর্ট পার্টনার হিসেবে পাশে ছিলো বৈশ্বিক এআই ডিভাইস ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠান অনার।
অনার বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তরুণ উদ্ভাবকদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে অনার গর্বিত। ব্র্যাকইউ ডুবুরিকে সহযোগিতা করা আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই অংশ। এর মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করতে এবং দেশের উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”
ব্র্যাকইউ ডুবুরির এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমবেডেড সিস্টেম, মেরিন টেকনোলজি ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে জটিল প্রকৌশল সমস্যা সমাধানে দেশের তরুণদের সক্ষমতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে দলটির এই সাফল্য।





















