রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত নকশা চরমভাবে লঙ্ঘন করে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধভাবে কমার্শিয়াল শোরুম ও ‘মোবাইল মার্কেট’ গড়ে তোলার দায়ে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে। নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত এসব দোকানপাট দ্রুত অপসারণের পরিকল্পনা পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে রাজউক।
রাজউকের পরিচালক (জোন-৫)-এর কার্যালয় থেকে জারিকৃত নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করে তৈরি এই মোবাইল মার্কেট বৈধ করার বা নকশা সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।
অভিযোগকারী এম. এ সরোয়ার হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজউক সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করে ব্যাপক নকশা লঙ্ঘনের সত্যতা পেয়েছে:
বেজমেন্ট-১-এ দখল: অনুমোদিত নকশায় বেজমেন্ট-১-এর একাংশে কার পার্কিং ও দোকান দেখানো থাকলেও, রাজউকের পরিদর্শনে দেখা যায় সেখানে নকশা বহির্ভূতভাবে প্রায় ১১,৫৪৭.০০ বর্গফুট জুড়ে নতুন মোবাইল শপ ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
বেজমেন্ট-২ সম্পূর্ণ দখল: এই তলটি সম্পূর্ণ অংশ কার পার্কিং হিসেবে অনুমোদিত থাকলেও রাজউকের পরিদর্শনে প্রায় ৩১,৩৭২.৫৪ বর্গফুট জুড়ে অবৈধভাবে কমার্শিয়াল মার্কেট গড়ে তোলার প্রমাণ মিলেছে।
অতিরিক্ত তলা নির্মাণ: ভবনের উঁচুতেও রাজউকের অনুমোদন অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনুমোদন ছিল ১৮ (আঠারো) তলার, অথচ বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নকশাবহির্ভূতভাবে ১৯ (উনিশ) তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ করেছে, যা ‘ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২’ এবং ‘ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮’-এর সরাসরি পরিপন্থী।
পূর্বে জারি করা শোকজ নোটিশের জবাবে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড পার্কিংয়ের জায়গা ভূমি ব্যবহারে রূপান্তরের জন্য রাজউকের কাছে আবেদন করেছিল।
তবে রাজউক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্প্রতি এক শুনানিতে বসুন্ধরা সিটির দুই প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তাদের আবেদনটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান (Rejection) করা হয়। রাজউক জানিয়েছে, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে পার্কিংয়ের জায়গায় মোবাইল শপ বা মার্কেট ব্যবহারের আর কোনো সুযোগ নেই।
বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের পার্কিং এরিয়া আগের নকশায় ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করতে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে রাজউক।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত অপসারণ পরিকল্পনা জমা দিতে ব্যর্থ হলে বা আদেশ অমান্য করা হলে রাজউক নিজ উদ্যোগে অবৈধ অংশ অপসারণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




















