নির্দিষ্ট কিছু আইফোন ব্যবহারকারীকে ‘মার্সেনারি স্পাইওয়্যার’ বা ভাড়াটে নজরদারি সফটওয়্যার নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে অ্যাপল। প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোনে অ্যাপলের এমন থ্রেট নোটিফিকেশন এলে সেটিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
অ্যাপলের ‘থ্রেট নোটিফিকেশন’ ব্যবস্থা মূলত উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অত্যাধুনিক সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক করতে তৈরি করা হয়েছে। সাংবাদিক, রাজনীতিক, মানবাধিকারকর্মী, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এ ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
কেন এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ
অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্সেনারি স্পাইওয়্যার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। সাধারণ সাইবার অপরাধীদের তুলনায় এ ধরনের হামলাকারীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থের জোগান অনেক বেশি থাকে।
পেগাসাসের মতো নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে লক্ষ্য করা ব্যক্তির ফোনের তথ্য, যোগাযোগ ও অন্যান্য সংবেদনশীল কর্মকাণ্ডে নজরদারির চেষ্টা করা হতে পারে।
আসল সতর্কবার্তা চেনার উপায়
অ্যাপলের প্রকৃত থ্রেট নোটিফিকেশন একাধিক জায়গায় দেখা যেতে পারে। আইফোনের লক স্ক্রিন এবং Settings অ্যাপের মূল প্রোফাইলের নিচে এ ধরনের সতর্কতা প্রদর্শিত হতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাপল অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত ইমেইলেও সতর্কবার্তা পাঠানো হতে পারে।
ব্যবহারকারী চাইলে account.apple.com-এ নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেও এ বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা রয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন।
তবে ভুয়া সতর্কবার্তা থেকে সাবধান থাকতে হবে। অ্যাপলের প্রকৃত থ্রেট নোটিফিকেশনে ইমেইল বা বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড চাওয়া হয় না। কোনো ফাইল ডাউনলোড করা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করার নির্দেশও দেওয়া হয় না।
সতর্কবার্তা এলে করণীয়
আইফোনে এমন সতর্কতা পাওয়ার পর অ্যাপল ব্যবহারকারীদের দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো Lockdown Mode চালু করা।
এই সুবিধা আইফোনের কিছু ফিচার সীমিত করে সম্ভাব্য অত্যাধুনিক সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে অ্যাপলের অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইসের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা উচিত।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের এ ধরনের অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্য হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আইফোনে অ্যাপলের প্রকৃত থ্রেট নোটিফিকেশন দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।





















