ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ছিল না। কোডিং শেখার জন্য তাই মায়ের স্মার্টফোনই ছিল ভরসা। ইউটিউব ও ইন্টারনেটের বিনামূল্যের বিভিন্ন রিসোর্স দেখে তিন বছর ধরে প্রোগ্রামিং শেখার পর নিজেরাই তৈরি করেছে তিনটি অ্যাপ। এবার সেই দুই যমজ ভাই তানভীর হাসান ও তাফসীর হাসান যুক্ত হলো দেশের অ্যাপ স্টোর ‘বিডিঅ্যাপস’-এর সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার হিসেবে।
শরীয়তপুরের বাসিন্দা এই দুই ভাইয়ের বয়স মাত্র ১১ বছর। তারা বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকে নিজেদের উদ্যোগে কোডিং ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছে তারা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাদের প্রতিভার কথা জানতে পারে বিডিঅ্যাপস। পরে গত ১৩ আগস্ট রবি আজিয়াটা পিএলসির করপোরেট কার্যালয়ে দুই ভাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে নিজেদের তৈরি অ্যাপ, কোডিং শেখার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিডিঅ্যাপস টিমের কাছে তুলে ধরে তারা।
তাদের আগ্রহ ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিডিঅ্যাপস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তানভীর ও তাফসীরকে প্ল্যাটফর্মটির সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার হিসেবে যুক্ত করে।
এরপর গত ১৯ আগস্ট বিডিঅ্যাপসের একটি প্রতিনিধি দল শরীয়তপুরে দুই ভাইয়ের বাড়িতে যায়। সেখানে তাদের নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করা হয়। বিডিঅ্যাপসের প্রকৌশলীরা অ্যাপ তৈরি, কোডিং চর্চা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও এআইনির্ভর অ্যাপ তৈরির বিষয়ে তাদের প্রাথমিক ধারণা দেন।
এআই ও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, সে বিষয়েও দুই ভাইকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতদিন মায়ের স্মার্টফোনেই কোডিং অনুশীলন ও অ্যাপ তৈরির কাজ চালিয়ে আসছিল তানভীর ও তাফসীর। তাদের শেখার পরিবেশ আরও সহজ করতে বিডিঅ্যাপসের পক্ষ থেকে দুই ভাইকে একটি নতুন ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে বিডিঅ্যাপসের ব্র্যান্ডেড উপহারসামগ্রী।
শুধু ডিভাইস নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখার সুযোগও পাচ্ছে তারা। দুই ভাইকে ‘ফুল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স’-এর জন্য স্কলারশিপ দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিডিঅ্যাপস। এর মাধ্যমে তারা কোডিং ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের বিষয়ে আরও কাঠামোবদ্ধভাবে শেখার সুযোগ পাবে।
পড়াশোনাতেও তানভীর ও তাফসীরের সাফল্য রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মেধার ভিত্তিতে তারা বৃত্তি পেয়েছে। ভবিষ্যতে দুজনেরই সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি মাইক্রোসফট বা নাসার মতো প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখার স্বপ্ন রয়েছে তাদের।
এর বাইরেও নিজেদের তৈরি এআইনির্ভর একটি অত্যাধুনিক রোবট বানানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছে এই দুই ক্ষুদে ডেভেলপার।
রবি আজিয়াটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং মোহাম্মদ শওকত কাদের চৌধুরী বলেন, “প্রতিভা বিকাশে সুযোগের সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়, প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা। আমরা চাই, তানভীর ও তাফসীরের মতো কিশোর-তরুণরা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি এআই ও নতুন প্রযুক্তিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। বিডিঅ্যাপসের এই উদ্যোগ হয়তো তাদের পথচলার একটি ছোট ধাপ, কিন্তু ভবিষ্যতের বড় উদ্ভাবনের শুরু এখান থেকেই হতে পারে।”
রবি আজিয়াটা পিএলসির ডিজিটাল উদ্যোগ বিডিঅ্যাপস দেশের অন্যতম বড় অ্যাপ স্টোর ও ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে এক লাখের বেশি ডেভেলপার যুক্ত রয়েছেন। তাদের প্রায় ২৫ শতাংশ নারী ডেভেলপার।
নিজেদের তৈরি অ্যাপ প্রকাশের পাশাপাশি টেলিকম এপিআই, সাবস্ক্রিপশন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে আয় করার সুযোগও রয়েছে ডেভেলপারদের। বর্তমানে বিডিঅ্যাপস প্ল্যাটফর্মে ডেভেলপারদের তৈরি ও প্রকাশিত অ্যাপের সংখ্যা এক লাখের বেশি।





















