একসময় ১০ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত র্যাম, বড় ব্যাটারি ও মোটামুটি মানের ডিসপ্লেসহ ব্যবহারযোগ্য স্মার্টফোন। তবে চিপসেট ও মেমোরি যন্ত্রাংশের বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং বিভিন্ন শুল্ক-কর বাড়ার প্রভাবে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন ১০ হাজার টাকার বাজেটে একটি মানসম্মত স্মার্টফোন খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানাচ্ছেন।
বিশেষ করে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে। শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সীমিত বাজেটের ক্রেতাদের অনেকে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে পছন্দসই মডেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
১০ হাজারের নিচে কমছে বিকল্প
আগে শাওমি, রিয়েলমি, টেকনো, আইটেল ও ইনফিনিক্সের মতো ব্র্যান্ডের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বেশ কিছু এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোন পাওয়া যেত। এসব ফোনে ২ জিবি বা ৩ জিবি র্যাম এবং তুলনামূলক বড় ব্যাটারির মতো ফিচারও থাকত।
বর্তমানে এসব ব্র্যান্ডের প্রাথমিক পর্যায়ের স্মার্টফোনের দাম অনেক ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা বা তারও বেশি থেকে শুরু হচ্ছে। ফলে ১০ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কিনতে চাওয়া গ্রাহকদের হাতে বিকল্প কমে এসেছে।
কম দামের ফোনে সীমিত স্পেসিফিকেশন
১০ হাজার টাকার নিচে বাজারে থাকা অল্প কয়েকটি স্মার্টফোনে সাধারণত ১ জিবি বা ২ জিবি র্যাম এবং অ্যান্ড্রয়েড গো সংস্করণ দেখা যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব ডিভাইসে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত বিকাশ, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপ চালাতে গিয়ে ধীরগতির সমস্যায় পড়তে হয়।
ফলে স্মার্টফোন হলেও কার্যক্ষমতার দিক থেকে অনেক ডিভাইসই ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।
বাড়তি দামের পেছনে যেসব কারণ
স্মার্টফোনের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে রয়েছে—
র্যাম ও স্টোরেজের দাম: মেমোরি চিপের বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ফোনের উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে।
চিপসেটের মূল্য: প্রসেসরের দাম বাড়ায় কম দামের ফোনেও এর প্রভাব পড়ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, দোকানে এসে ১০ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন খোঁজা ক্রেতার সংখ্যা কম নয়। কিন্তু ওই বাজেটে চাহিদা অনুযায়ী ফোন না থাকায় অনেক ক্রেতাকেই বাজেট বাড়ানোর পরামর্শ দিতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, এর প্রভাব পড়ছে বিক্রির ওপরও। বিশেষ করে যেসব ক্রেতার বাজেট কঠোরভাবে ১০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাদের বড় একটি অংশ ফোন কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ক্রেতাদের প্রশ্ন, দৈনন্দিন যোগাযোগ, মোবাইল আর্থিক সেবা ও বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহারের জন্য স্মার্টফোন যখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, তখন নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে ভালো ডিভাইস রাখা কতটা সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা বাড়াতে এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইসে শুল্ক সুবিধা, স্থানীয় উৎপাদনে প্রণোদনা এবং দেশীয় নির্মাতাদের জন্য বিশেষ সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।






















