ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা মোবাইল ফোনের চালান জব্দে অভিযান জোরদার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস হাউজের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন সময় উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন জব্দ করা হচ্ছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশফেরত যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার সুযোগ নিয়ে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত মোবাইল ফোন দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব ফোনের একটি অংশ পরে দেশের অনানুষ্ঠানিক বা গ্রে মার্কেটে বিক্রি হয়।
ব্যাগেজ বিধিমালায় নির্ধারিত সুবিধার বাইরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন এনে শুল্ক-কর পরিশোধ না করা আইনসঙ্গত নয়। তবে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে এসব ফোন বিমানবন্দর থেকে বের করার চেষ্টা করেন।
কাস্টমসের নজর এড়াতে কখনো লাগেজে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়। আবার লাগেজ বা ট্রলির ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বারেও ফোন লুকানোর চেষ্টা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে শরীরে ফোন বহনের অভিযোগও পাওয়া যায়।
জব্দ হওয়া চালানে আইফোন, গুগল পিক্সেল, স্যামসাং, শাওমি ও অনারের মতো ব্র্যান্ডের দামি স্মার্টফোনের পাশাপাশি রিফার্বিশড ডিভাইসও থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দরে চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় দেশের অনানুষ্ঠানিক মোবাইল ফোনের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বিদেশ থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা অনেক ফোনই পরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বিক্রয়চ্যানেলের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়।
বিশেষ করে ‘ইনট্যাক্ট’, ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ কিংবা বিদেশি ভ্যারিয়েন্টের নামে বিক্রি হওয়া ফোনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়লে এসব ফোনের সরবরাহ কমে বাজারে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় সরঞ্জাম পরিচিতি নিবন্ধন বা NEIR ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে আসা ও অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং পরবর্তী সময়ে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।






















