দেশের মোবাইল ফোন বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট বিক্রি হচ্ছে খোলামেলাভাবেই। অথচ সরকার একাধিকবার ঘোষণা দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (NIRMS) চালু করেও এর সুফল এখনো মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কারা এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ থেকে লাভবান?
মূল অভিযোগ: বৈধ কারখানাকে ঠেকিয়ে দিচ্ছে অবৈধ আমদানিকারকচক্র
বর্তমানে দেশে ১২টিরও বেশি মোবাইল ফোন অ্যাসেম্বলি বা উৎপাদন কারখানা রয়েছে। এগুলো প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেয় এবং প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে না কার্যকর সুরক্ষা।
এক মোবাইল কারখানার প্রধান নির্বাহী বলেন: “আমরা ভ্যাট, ট্যাক্স, বিওইসহ সব নিয়ম মেনে কাজ করি। অথচ অবৈধভাবে ফোন এনে খোলা বাজারে বিক্রি করছে কিছু আমদানিকারক গোষ্ঠী, যারা সরকারের ভেতরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় আছে।”
সুবিধাভোগী কারা?
১. অবৈধ আমদানিকারক সিন্ডিকেট
-
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে ছোট চালানে ফোন আনা হয় কার্গো, হ্যান্ড ক্যারি বা নামমাত্র ঘোষণা দিয়ে।
-
বেশিরভাগ ফোনই আসে আইএমইআই রেজিস্ট্রেশনবিহীন।
২. প্রভাবশালী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান
-
নামমাত্র লাইসেন্স নিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান বাজার দখল করেছে। তারা কর দেয় না, অথচ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট বিক্রি করছে।
৩. নির্দিষ্ট কিছু সরকারি কর্মকর্তার প্রশ্রয়
-
NIRMS কার্যকর করতে বারবার উদ্যোগ হলেও প্রযুক্তি বিভাগ, কাস্টমস এবং বিটিআরসি–তিন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতায় বিষয়টি ঝুলে আছে।
-
প্রযুক্তি নির্ভর রাজস্ব আদায়ের বদলে ‘সিস্টেম ধামাচাপা দিয়ে রাখার’ মাধ্যমে কিছু কর্মকর্তা অপ্রকাশ্য সুবিধা পাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কে?
-
দেশীয় উৎপাদকরা: ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে উৎপাদিত ফোন বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না।
-
সরকার: বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে কাস্টমস ও এনবিআর।
-
গ্রাহকরা: অবৈধ ফোনে নেই কোনো ওয়ারেন্টি বা নিরাপত্তা গ্যারান্টি, ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্রেতারা।





















