যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পাশাপাশি এবার নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্যামসাং ফোন’। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি চালাতে এবং সম্ভাব্য নাশকতার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এবার স্মার্টফোনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন থামেনি, একদিনেই নিহত হয়েছেন আরও ৩৩ ফিলিস্তিনি। ঠিক এই সময়েই গাজার বাজারে স্যামসাং ফোনের সন্দেহজনক আগমন এবং এতে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্যামসাং ফোনে ইসরায়েলি ‘অ্যাপক্লাউড’ পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ডিজিটাল নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম ‘এসএমইএক্স’ (SMEX)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে জনপ্রিয় স্যামসাং গ্যালাক্সি ‘এ’ (Galaxy A) এবং গ্যালাক্সি ‘এম’ (Galaxy M) সিরিজের ফোনগুলোতে ‘অ্যাপক্লাউড’ (AppCloud) নামক একটি প্রোগ্রাম ডিফল্ট হিসেবে ইনস্টল করা থাকছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের তথ্যমতে, এই প্রোগ্রামটি তৈরি করেছে ইসরায়েলি কোম্পানি ‘আয়রনসোর্স’ (ironSource)। এটি ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই ডিভাইসের ভৌগোলিক অবস্থান (Location), আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অ্যাপক্লাউড ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের গভীরে লুকিয়ে থাকে। সাধারণ সেটিংসে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। এটি মুছতে হলে ফোনের ‘রুট অ্যাক্সেস’ প্রয়োজন, যা করলে ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যায়। ফলে ব্যবহারকারীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই পকেটে ইসরায়েলি নজরদারির যন্ত্র বহন করছেন।
ত্রাণ নেই, তবে ফোন কেন? ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘শেহাব’ এবং ‘আল জাজিরা’র প্রতিবেদনে একটি গুরুতর অসামঞ্জস্যের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। বর্তমানে গাজায় তীব্র মানবিক সংকট চলছে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে তাঁবু, নির্মাণসামগ্রী এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রবেশ প্রায় নিষিদ্ধ। অথচ, গত মাসে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে হঠাৎ করেই গাজার বাজারে বিপুল সংখ্যক স্মার্টফোন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ আটকে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে যোগাযোগের এত আধুনিক যন্ত্র প্রবেশের অনুমতি কি শুধুই কাকতালীয়? সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভিস্টরা অভিযোগ করছেন, দখলদার ইসরায়েল নিজেদের স্বার্থ ছাড়া গাজায় কিছুই ঢুকতে দেয় না। এই ফোনগুলো হয়তো গোয়েন্দা নজরদারি বা ভবিষ্যতে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যেই বাজারে ছাড়া হয়েছে।
‘মোবাইল ফোন মানেই ইসরায়েলের অংশ’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি পুরোনো বক্তব্য এই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা মোবাইল ফোন বহন করে, তারা নিজেদের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি অংশ বহন করে।’
লেবাননে ২০২৪ সালে পেজার বা ওয়্যারলেস ডিভাইস বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। গাজার সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এই ফোনগুলো একেকটি ‘টাইম বোমা’ হতে পারে, যা যেকোনো সময় বড় কোনো বিপদ ডেকে আনতে পারে।






















