ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণের মাধ্যমে মেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একচেটিয়া প্রভাব তৈরি করেনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত। এর আগে মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিনে নিয়েছে কোম্পানিটি।
ওয়াশিংটনের জেলা আদালতের বিচারক জেমস বোসবার্গ রায়ে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজারে মেটা একচেটিয়া অবস্থান গড়ে তোলার কোনো প্রমাণ এফটিসি হাজির করতে পারেনি।’
২০২০ সালে এফটিসির মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বীদের কিনে নিয়ে মেটা বাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে।
তবে আদালত জানিয়েছে, এ অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার অবস্থানও একচেটিয়ার পর্যায়ে নেই।
মেটা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আদালতের রায় স্বীকার করে মেটা প্রচণ্ড প্রতিযোগিতার সম্মুখীন।
বিচারক বোসবার্গ মামলার মূল শুনানিতে মেটার প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ ও সাবেক কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গের সাক্ষ্যও শুনেছিলেন। এতে তারা জানান, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্লাটফর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিযোগিতায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
বিচারক আরো উল্লেখ করেন, এফটিসি নিজেই মেটাকে ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম ও ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ কেনার অনুমোদন দিয়েছিল।
তখন সংস্থাটি অভিযোগ তোলে, মেটা ইনস্টাগ্রামে ১০০ কোটি ডলার এবং হোয়াটসঅ্যাপে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ করে প্রতিযোগিতা দমাতে চেয়েছিল। কিন্তু আদালত বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাজারে মেটার শেয়ারবাজার এখনো কমছে। তাই এ একচেটিয়ার দাবি টিকছে না।
এফটিসি জানায়, তারা আদালতের এ সিদ্ধান্তে ‘হতাশ’ এবং রায় চ্যালেঞ্জ করবে কিনা তা এখনো ঠিক করেনি। সংস্থাটির জনসংযোগ পরিচালক জো সাইমনসন জানিয়েছেন, বিচারকের সঙ্গে আগেও কয়েকবার বিরোধ হয়েছিল। এদিকে মেটা জানিয়েছে, তাদের পণ্য মানুষ ও ব্যবসার জন্য উপকারী। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
এ রায়ের ফলে মেটাকে ভেঙে আলাদা কোম্পানি করার সম্ভাবনা আপাতত দূর হলো। তবে প্রতিষ্ঠানটির আইনি জটিলতা এখানেই শেষ নয়। আগামী জানুয়ারিতে তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে এক মামলায় জাকারবার্গকে সরাসরি আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক বিচারক। একই মামলায় ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিকেও সাক্ষ্য দিতে হবে।






















