স্যাটেলাইট-সক্ষম স্মার্টওয়াচকে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্মার্টঘড়িগুলো এখন শুধু মোবাইল টাওয়ার বা স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্কেই নির্ভর করে না। এগুলো স্যাটেলাইটভিত্তিক নন-টিরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কের (এনটিএনের) সঙ্গেও সংযুক্ত হতে পারে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও ঘড়িটি স্যাটেলাইটে যুক্ত হয়ে বার্তা বা জরুরি তথ্য পাঠাতে পারে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকেই।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ‘স্মার্টওয়াচ এনটিএন ট্র্যাকার অ্যান্ড ফোরকাস্ট’ অনুযায়ী স্যাটেলাইট-সক্ষম স্মার্টওয়াচের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। যদিও ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্মার্টওয়াচ বাজারে স্যাটেলাইট-সক্ষম ঘড়ির শুধু ২ শতাংশই বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে বিক্রি ২৮ শতাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি ১০টি স্মার্টওয়াচের মধ্যে প্রায় তিনটি স্যাটেলাইট-সক্ষম হবে।
কাউন্টারপয়েন্ট পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রথম দিকে এ বাজারে নেতৃত্ব দেবে অ্যাপল ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান। কারণ এসব কোম্পানির নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রযুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ থেকে ন্যারোব্যান্ড নন-টিরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্ক (এনবি-এনটিএন) প্রযুক্তি মূলধারায় চলে এলে গুগল, গারমিনসহ বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড ঘড়িও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো, অবস্থান শেয়ার করা বা জরুরি যোগাযোগের মতো সুবিধা পাবে।
এনবি-এনটিএন হলো স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, যা বিশেষভাবে কম ডাটা এবং শক্তি ব্যবহার করে ডিভাইসকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত রাখার জন্য তৈরি।
বর্তমানে স্যাটেলাইট সুবিধা মূলত ৫০০ ডলারের বেশি মূল্যের প্রিমিয়াম স্মার্টওয়াচেই সীমাবদ্ধ। তবে এনবি-এনটিএন প্রযুক্তি যত বেশি ব্যবহার হবে, ততই এ বাধা হ্রাস পাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে এ প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে আছে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।
অ্যাপলের স্মার্টফোনে ২০২২ সালে চালু হয় স্যাটেলাইট এসওএস সেবা। পরের বছর হুয়াওয়েও টিয়ানটং-ভিত্তিক (চীনের স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক) সংযোগ যোগ করলে ‘স্যাটেলাইট যোগাযোগ’ আর বিশেষ কোনো প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর পর পরই এটি সবার মাঝে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের দিনে ব্যবহারকারীরা এমন স্মার্টওয়াচ চাইবেন, যা মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ দিতে পারে। বিশেষ করে কম কভারেজযুক্ত এলাকায়। তখন পরিধানযোগ্য ডিভাইসে স্যাটেলাইট সংযোগ সহজে ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। উন্নত চিপসেট ও অ্যান্টেনার কারণে ডিজাইন সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। আর এসব কারণে স্যাটেলাইট সংযোগ শুধু বিশেষ পরিস্থিতির সীমিত সুবিধা হিসেবে থাকবে না, বরং স্মার্টওয়াচে সাধারণ এবং জনপ্রিয় ফিচার হিসেবে যুক্ত হবে।
ভোক্তাদের জন্য স্যাটেলাইট সংযোগযুক্ত স্মার্টওয়াচ বানানো প্রথম কোম্পানির মধ্যে একটি হলো অ্যাপল। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের ওয়াচ আল্ট্রা থ্রিতে স্যাটেলাইট সুবিধা চালু হয়। ঘড়ির এস৯ চিপ জরুরি যোগাযোগ এবং সাধারণ টেক্সট বার্তা পাঠানোর জন্য গ্লোবালস্টারে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এছাড়া পিক্সেল ওয়াচ ফোর হলো প্রথম স্মার্টওয়াচ, যা ফোন ছাড়াই স্যাটেলাইটে বার্তা পাঠানো ও নেয়া উভয়ই করতে পারে।





















