অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট (গ্রে মার্কেট) বন্ধ এবং বৈধ আমদানি প্রক্রিয়াকে সহজ করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, বৈধ মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক কাঠামো সহজীকরণ ও যৌক্তিকীকরণ বিষয়ে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ফয়েজ আহমেদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও উৎপাদকদের প্রতি ধৈর্য্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার বর্তমানে মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করছে। এই আলোচনার ভিত্তিতেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিডা (BIDA) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সঙ্গে একটি হাই-লেভেল মিটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
:এই বৈঠকে মোবাইল ফোন আমদানির শুল্ক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের আশা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানি আরও সহনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করা সম্ভব হবে।
:ফয়েজ আহমেদ আমদানিকারকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে— বৈধ আমদানিকে সহজ ও সাশ্রয়ী করতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং শুল্ক-সংক্রান্ত যৌক্তিক সংস্কার শুরু হবে।
উৎপাদকদের প্রতি আহ্বান ও কঠোর হুঁশিয়ারি:
একই সাথে, তিনি দেশের বৈধভাবে উৎপাদকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ভোক্তাদের স্বার্থে স্থানীয় মোবাইল উৎপাদকদের উচিত মোবাইলের মূল্য কমিয়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা।
অন্যদিকে, অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানান:
অবৈধ আমদানি, চোরাচালান, দেশীয়ভাবে চুরি হওয়া ফোনের ক্রয়-বিক্রয়, ভুয়া IMEI দিয়ে ক্লোন মোবাইল-এর ব্যবসা সম্প্রসারণ, এবং বিদেশের রিফার্বিশড/পুরোনো ফোনের কেসিং পরিবর্তন করে নতুন হিসেবে বাজারজাত করার মতো অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে এভাবে মোবাইল ফোন চোরাচালানের কেন্দ্র এবং ইউজড ফোনের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত করতে পারি না।”
ফয়েজ আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, আমদানি শুল্ক ধীরে ধীরে যৌক্তিক মাত্রায় নামিয়ে আনতে পারলে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই স্মার্টফোনের দাম অনেক কমে আসবে। দিনের শেষে, ডিজিটাল স্পেইসকে নিরাপদ রাখা এবং মানুষের হাতে সুলভে নিরাপদ ডিভাইস পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।






















