দেশে ব্যবহৃত ২১ লাখ আইফোনের মধ্যে ২০ লাখ আসে অবৈধ পথে। মাত্র ৫টি ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বরের বিপরীতে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট শনাক্ত হয়েছে। এসব ফোন থেকেই এমএফএস জালিয়াতি ও নানা অপরাধে ব্যবহার করছে অপরাধীরা। জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বৈধ এবং নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) চালু করা জরুরি।
বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে এনইআইআর-এর গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলে এই সেমিনারের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এনইআইআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এনইআইআর পদ্ধতি চালু হলে স্মার্টফোনের দাম বেড়ে যাবে, এধরনের প্রচারণা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে বিটিআরসি।
বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক বলেন, দেশে বর্তমানে অবাধে মোবাইল ফোন ক্লোন করা হচ্ছে। বিটিআরসির ডাটাবেজে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে বাজারে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। এসব হ্যান্ডসেট দিয়ে একটি চক্র নানা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রেতারাও না বুঝে নকল হ্যান্ডসেট কিনে ওয়ারেন্টি সেবা পাচ্ছেন না। এমন অজস্র অভিযোগ আমলে নিয়েই বিজয় দিবসে এনইআইার সেবা শুরু হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো যাচাই-বাছাই করে ক্লোন ও রিফারবিশড ফোন বাদে বাকি সেটগুলো সরকার চাইলে রাজস্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে বৈধ করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এই সেবা চালু হলে ভুক্তভোগী গ্রাহক চুরি বা হারিয়ে যাওয়া হ্যান্ডসেট ঘরে বসেই বন্ধ করতে পারবেন।
পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, অনিবন্ধিত ফোন ব্যবহারের কারণে অপরাধীদের শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হলে এই সমস্যা দূর হবে। হারানো মোবাইল সেট খুঁজে পাওয়ার কাজও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া সেটগুলো আখাওড়া, বটুলি, বেনাপল ও দর্শনা হয়ে ভারতে এবং ভারতের চুরি হওয়া ফোন বাংলাদেশে আসে। এ ছাড়াও পুরোনো ফোনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেকেন্ডহ্যান্ড বাজার বেড়েছে। এতে হারানো সেট উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে।
মোবাইল ফোন প্রস্ততকারকদের সংগঠন এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহীদ বলেন, এনইআইআর আমাদের প্রজেক্ট নয়। এটি জাতীয় ইস্যু। বদ উদ্দেশ্য ছাড়া কেউ এর বিরুদ্ধে যেতে পারে না। মোবাইল ফোনের প্রসারের জন্য ট্যাক্স সহনশীল করা দরকার।
বক্তারা বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে মোবাইল সেট ব্যবসা যাতে কোনো সিন্ডিকেটের হাতে চলে না যায় এবং ক্রেতাদের যাতে উচ্চদামে মোবাইল সেট কিনতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ফ্ল্যাগশিপ মোবাইল ফোনের দাম সাশ্রয়ী করতে রাজস্ব কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সভাপতি সমীর কুমার দে এর সঞ্চালনায় সেমিনারে সেমিনারে বিটিআরসি কমিশনার মাহমুদ হোসাইন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব রইছ উদ্দিন খান, মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।






















