মোবাইল ফোনে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে প্রায় ৩৮ টাকাই কর হিসেবে কেটে নেওয়াকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টিআরএনবি (TRNB) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উচ্চ করহার কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরির আশ্বাস দেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে টেলিকম খাতে করের হার ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। তিনি উল্লেখ করেন, “একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে পান মাত্র ৬২ টাকার সেবা। এটি সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরণের বড় চাপ। আমরা এমন একটি সমাধান খুঁজছি যেখানে গ্রাহকের ওপর চাপ কমবে, আবার সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”
নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজ করতে সরকার এক অভিনব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘একক ডিজিটাল আইডি’ এবং তার সাথে সংযুক্ত একটি ‘ডিজিটাল ওয়ালেট’ চালুর কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেন এবং পরিচয় নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়া একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে চলে আসবে।
দেশের ইন্টারনেট সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপদেষ্টা আরও বলেন:
১০০ এমবিপিএস গতি: সরকার গ্রাহক পর্যায়ে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করতে চায়।
ফাইভজি বিস্তৃতি: দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে অতি দ্রুত ৫জি সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন: ইন্টারনেটের খরচ কমাতে এবং গুণগত মান বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি নেটওয়ার্কগুলোকে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপদেষ্টা প্রযুক্তি খাতকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই খাতই হবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। সরকার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি।


















