দেড় দশকের বেশি সময় পার হলেও শ্রমিকদের ন্যায্য প্রাপ্য বুঝে না দেওয়ার অভিযোগে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা। শ্রমিকদের দাবি, শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) থেকে তাদের ৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের অর্থসহ মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। এ অর্থ পরিশোধে দীর্ঘসূত্রিতার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ১৭ বছরে জমে থাকা এই পাওনা পরিশোধ করা হলে দেশের ৬৭টি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মী আহসানুল হক বলেন, ‘আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি। কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।’
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে দ্রুত অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, ‘প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত চাই না, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছি। এখন বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।’
আন্দোলনকারীরা জানান, শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের অর্থ থেকে তারা আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ অংশ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সেই অর্থ এখনো বুঝে পাননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, গ্রামীণফোন দেশের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রাখা কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য পরিশোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।





















