রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে সাম্প্রতিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারী। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ অতীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর টেলিটক শাখার বিভিন্ন পদে ছিলেন বলে অভিযোগ তাদের।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তা সম্প্রতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এতে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব পদোন্নতিতে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
যেসব কর্মকর্তার নাম আলোচনায়
টেলিটকের পদোন্নতিসংক্রান্ত নথি এবং সংগঠনটির কমিটির তালিকা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা কয়েকজন কর্মকর্তার নাম সামনে এনেছেন।
ব্যবস্থাপক পদে প্রকৌশলী শেখ জাইনুল ইসলাম জইন, যিনি সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে টেকনিক্যাল বিভাগে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক পদে প্রকৌশলী ইয়ামিন কবিরের নাম রয়েছে। তিনি সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যবস্থাপক পদে ইফতেখারুল হাসিব, তাসরিফ রহমান, এস এম পারভেজ রানা, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. আরিফুল ইসলাম, মাসুম চৌধুরী এবং খালিদ আল মুনতাসিরসহ কয়েকজনের পদোন্নতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
উপ-ব্যবস্থাপক পদে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান পিয়াস, দেবদাস বিশ্বাস, মো. লাবিব-বিন-জিয়াহ, সুজন কুমার বিশ্বাস, সোনিয়া সাবরিন শুকলা, সাদমান নাসিফ, মো. মামুন মোল্লা ও মো. আরিফুল ইসলামের নামও রয়েছে।
পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ
টেলিটকের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রভাব ফেলেছে।
তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কর্মকর্তারা সুবিধা পেলেও অনেক পেশাদার কর্মকর্তা দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পদোন্নতির ক্ষেত্রে সবার জন্য একই মানদণ্ড কার্যকর হলে আপত্তির সুযোগ কম থাকে। কিন্তু একই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।’
রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ
কর্মকর্তাদের একটি অংশের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অতীতে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা এখন নিজেদের অবস্থান নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তাদের ভাষ্য, কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
টেলিটকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ
রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর হিসেবে টেলিটক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সক্ষমতা, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা উন্নয়নের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা না থাকলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তাদের পদোন্নতির কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে টেলিটক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।




















