দেশের মোবাইল গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—ঘরের ভেতরে বা লিফটে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার বিটিআরসি ৮৫০ মেগাহার্টজ এবং ইজিএসএম (EGSM) ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে মোবাইল অপারেটররা কম সংখ্যক টাওয়ার ব্যবহার করেও বিস্তৃত এলাকায় শক্তিশালী সিগন্যাল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
ইজিএসএম (EGSM) ব্যান্ড আসলে কী?
ইজিএসএম হলো প্রচলিত ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের একটি বর্ধিত অংশ। এটি অপারেটরদের অতিরিক্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সরবরাহ করে। এর ফলে একই সময়ে আরও বেশি ব্যবহারকারীকে নিরবচ্ছিন্ন কল এবং দ্রুতগতির ডেটা সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। বিশেষ করে যেখানে নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল, সেখানে এই ব্যান্ডটি ‘ম্যাজিক’ হিসেবে কাজ করে।
কেন এই ব্যান্ডগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
ইনডোর পেনিট্রেশন: নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সির কারণে এই সিগন্যাল দেওয়াল ভেদ করে ঘরের ভেতরে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে সহজে পৌঁছাতে পারে।
বিস্তৃত কভারেজ: গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় অল্প টাওয়ার দিয়েই বিশাল এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায়।
খরচ সাশ্রয়: অপারেটরদের টাওয়ার স্থাপনের খরচ কমবে, যা পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী সেবার পথ তৈরি করবে।
ইন্টারফেয়ারেন্স বা সিগন্যাল জ্যামের ঝুঁকি
৮৫০ মেগাহার্টজ এবং ইজিএসএম ব্যান্ড দুটি একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে কারিগরিভাবে সতর্ক না থাকলে একটির সিগন্যাল অন্যটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে (Interference)। এতে হিতে বিপরীত হয়ে কলের মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিটিআরসি একটি বিশেষ কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।
বিনা খরচে স্পেকট্রাম বরাদ্দ
বিটিআরসি-র নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮.৪ মেগাহার্টজ ইজিএসএম স্পেকট্রাম (৮৮০-৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ এবং ৯২৫-৯৩৩.৪ মেগাহার্টজ) কোনো আর্থিক খরচ ছাড়াই চার সপ্তাহের জন্য অপারেটরদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে অপারেটররা ফিল্ড টেস্ট বা পরীক্ষা চালিয়ে দেখবে কীভাবে সিগন্যাল জ্যাম কমানো যায়।


















