দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের (জিপি) বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক কম দামে সিম বিক্রি করে বাজার দখলের অভিযোগ তুলেছে প্রধান দুই প্রতিযোগী রবি আজিয়াটা এবং বাংলালিংক। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রবির করা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা আইন ভঙ্গের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে গ্রামীণফোন।
দেশের প্রায় ১৮ কোটি ৮৪ লাখ মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে ৮ কোটি ৬৫ লাখই গ্রামীণফোনের, যা মোট গ্রাহকের প্রায় ৪৬ শতাংশ। এছাড়া, প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার টেলিকম বাজারের অর্ধেকই তাদের দখলে। এই একক আধিপত্যের কারণে ২০১৯ সালে বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা’ বা এসএমপি (Significant Market Power) অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাদের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে।
কিন্তু রবি ও বাংলালিংকের অভিযোগ, এসএমপি অপারেটর হয়েও গ্রামীণফোন predatory pricing বা অস্বাভাবিক কম দামে সিম বিক্রি করে অন্য অপারেটরদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।
নথি অনুযায়ী, প্রতিটি নতুন সিমের জন্য সরকারকে ৩০০ টাকা কর দিতে হয়। তা সত্ত্বেও, গত বছর রবি প্রতিটি সিম ১৯৯ টাকায় বিক্রি করেছে, যেখানে গ্রামীামীণফোন বিক্রি করেছে মাত্র ১৬৯ টাকায়। শুধু তাই নয়, রবি যেখানে বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা কমিশন দিয়েছে, সেখানে গ্রামীণফোন দিয়েছে ১২২ টাকা।
এই হিসাব অনুযায়ী, বিক্রেতার কমিশন বাদ দিলে গ্রামীণফোনের প্রতিটি সিমের আসল দাম দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ টাকা, যা রবির সিমের দামের চেয়ে ৫৭ শতাংশ কম। রবির অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী অপারেটর হয়ে গ্রামীণফোনের এই কৌশল প্রতিযোগিতা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন জানিয়েছে, রবির করা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন তারা হাতে পেয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
কমিশনের চেয়ারপার্সন এ এইচ এম আহসান বলেন, “অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা শিগগিরই শুনানির জন্য গ্রামীামীণফোনকে ডাকব। তাদের বক্তব্য শোনার পর মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এছাড়াও, বাংলালিংকের করা অভিযোগের তদন্তও দ্রুত শুরু করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
টেলিকম খাতের এই সংঘাত বাজারের সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন প্রতিযোগিতা কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের টেলিকম বাজারের ভবিষ্যৎ।






















