দেশের শীর্ষ টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন সম্প্রতি অবৈধ ফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘সুমাস টেক লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ বা ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নের এই ক্রান্তিলগ্নে ‘অবৈধ’ বা ‘গ্রে মার্কেট’ ফোনের অন্যতম শীর্ষ বিক্রেতা হিসেবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন সখ্যতা নিয়ে টেলিকম খাতে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এই পার্টনারশিপের আওতায় গ্রামীণফোনের পণ্য কিনলে সুমাস টেকের আউটলেটে ব্যবহারের জন্য ৫,০০০ টাকার ভাউচার দেওয়া হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে অবৈধ ফোন কেনাকেই উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এই কৌশলগত পার্টনারশিপের লক্ষ্য হলো সুমাস টেক আউটলেটগুলোতে গ্রামীণফোনের পণ্যগুলো আরও সহজলভ্য করা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, সুমাস টেক দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বা ‘গ্রে মার্কেট’ পণ্যের ব্যবসার জন্য পরিচিত। সরকার যখন ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর (NEIR) কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবৈধ ফোন বন্ধের চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়ে গ্রামীণফোনের মতো একটি কমপ্লায়েন্ট (Compliant) কোম্পানি কীভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৈধ মোবাইল আমদানিকারক বলেন, “গ্রামীণফোনের এই ভাউচার অফারটি মূলত গ্রাহকদের সুমাস টেকের দোকানে যেতে এবং সেখান থেকে অবৈধ ফোন কিনতে প্রলুব্ধ করবে। এটি পরোক্ষভাবে চোরাচালানকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।”
একদিকে বিটিআরসি এবং সরকার অবৈধ ফোনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর সেই অবৈধ ফোনের কারবারিদের সঙ্গেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে সুমাস টেক নিজেদের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং গ্রামীণফোনের আড়ালে নিজেদের অবৈধ ব্যবসাকে আড়াল করতে চাইছে।






















