কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এশিয়াজুড়ে বড় ও উন্নতমানের ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। তবে এ বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর অর্থায়নের জটিলতা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার জোহর-সিঙ্গাপুর স্পেশাল ইকোনমিক জোনের মতো হাই-টেক এলাকাগুলোয় এসব কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনাকারী অনেক কোম্পানি এখন প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি থেকে সরে আসছে। আগে সাধারণত উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থ, বিনিয়োগকারীদের তহবিল এবং সাধারণ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করা হতো। কিন্তু ব্যয় বাড়ায় এখন এসব পদ্ধতি আর যথেষ্ট হচ্ছে না, ফলে নতুন ও আরো জটিল অর্থায়ন কাঠামোর দিকে যেতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ডাটা সেন্টার নির্মাণের খরচ মেটাতে উদ্যোক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, প্রাইভেট ইকুইটি ও ক্রেডিট ফার্ম। তবে কোম্পানিগুলো এ বিশাল পুঁজি সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যবসার জন্য বাড়তি ঝুঁকি বয়ে আনছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণের সুদহার সাধারণ ব্যাংক ঋণের তুলনায় অনেক বেশি, যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আবার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে অনেক কোম্পানি এখন ঋণের পাশাপাশি ‘কিকার’ হিসেবে ঋণদাতাদের কোম্পানির শেয়ার বা মালিকানা ছেড়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত নতুন শেয়ার ইস্যু করার ফলে কোম্পানির বর্তমান শেয়ারহোল্ডার বা মূল মালিকদের মালিকানার অংশ কমে যাচ্ছে। একে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ভাষায় বলা হয় ‘ইকুইটি ডিলিউশন’।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক ডাটা সেন্টার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্প্রিন্ট ডিসি কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক গ্যারি গোহ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। যেকোনোভাবেই হোক, প্রাইভেট ক্যাপিটাল বা বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ছেই।’
ব্যাংকার ও ডাটা সেন্টার পরিচালকদের মতে, এশিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন ডাটা সেন্টার প্রকল্পে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ খাতের গ্রাহক সংখ্যা কেবল হাতেগোনা কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় ব্যাংকগুলো ঝুঁকির আশঙ্কা করছে। তাই ডাটা সেন্টার ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাংকগুলো এখন আর কেবল ‘বড় নামের’ ওপর অন্ধবিশ্বাস না রেখে বাস্তবসম্মত নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছে।
এমপিরিয়ন ডিজিটালের প্রধান নির্বাহী মার্ক ফং ডাটা সেন্টার খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, অবকাঠামো নির্মাণ করলেই আয় শুরু হয় না। যতক্ষণ না সেখানে সার্ভার বসিয়ে কাজ শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ অপারেটররা (ডাটা সেন্টার পরিচালক) কোনো অর্থ পায় না।
একটি কোম্পানির জন্য বানানো ডাটা সেন্টারে ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। কারণ যদি সেই গ্রাহক চুক্তি করেও শেষ পর্যন্ত ডাটা সেন্টারটি ব্যবহার না করেন বা মাঝপথে সরে দাঁড়ান, তাহলে অপারেটরের কোনো আয়ই থাকে না।






















