বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার ভারতে অ্যাপলের আইফোন এখন ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। ২০২৫ সালে দেশটিতে আইফোন বিক্রির সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। গত এক বছরে ভারতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের অংশীদারিত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৯ শতাংশে। ২০২৪ সালে যা ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজার স্থবির থাকলেও প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে অ্যাপলের এই জয়জয়কার প্রযুক্তি বিশ্বে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পরিচালক তরুণ পাঠক বলেন, আইফোনের বৈচিত্র্যময় পণ্য তালিকা এবং ভারতীয় গ্রাহকদের মধ্যে দামি ফোন ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষাই অ্যাপলকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক সম্প্রতি ভারতকে ‘অসাধারণ বাজার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ভারতে রাজস্ব আয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে অ্যাপল। কেবল ফোন বিক্রিই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র (অ্যাপল স্টোর) বাড়িয়ে নিজেদের ভিত্তি আরও মজবুত করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি নয়ডায় অ্যাপলের পঞ্চম স্টোরটি চালু করা হয়েছে।
গ্রাহক টানতে অ্যাপল ভারতে তাদের বিভিন্ন সেবার দামও কমিয়ে দিয়েছে। পেশাদারদের জন্য ‘অ্যাপল ক্রিয়েটর স্টুডিও’ সাবস্ক্রিপশন ভারতে মাত্র ৩৯৯ টাকায় চালু করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ কম। সস্তায় প্রিমিয়াম সেবা দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের নিজেদের ইকোসিস্টেমে ভেড়াতে চাইছে অ্যাপল।
২০২৫ সালে ভারতের সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজার প্রায় ১৫ কোটি ইউনিটে স্থির ছিল। তবে ৩০ হাজার রুপির বেশি দামের ফোনের বাজারে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে ভারতের মোট ফোন চালানের ২৩ শতাংশই প্রিমিয়াম সেগমেন্টের দখলে। অন্যদিকে, প্রতিস্থাপন চক্র দীর্ঘ হওয়া এবং নতুন ফিচারের অভাবে সস্তা স্মার্টফোনের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।
বাজারের তথ্যমতে, ২৩ শতাংশ শেয়ার নিয়ে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষে রয়েছে চীনা ব্র্যান্ড ভিভো। ১৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে স্যামসাং এবং ১৩ শতাংশ শেয়ার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাওমি। রেকর্ড বিক্রির পরও জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ডগুলোর ভিড়ে অ্যাপল এখনো শীর্ষ তিনের বাইরে রয়ে গেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের স্মার্টফোন বাজার ২ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। বিশেষ করে মেমোরি বা র্যামের দাম বেড়ে যাওয়ায় ১৫ হাজার টাকার নিচের ফোনগুলোর দাম বাড়বে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠলেও প্রিমিয়াম ফোনের জনপ্রিয়তা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





















