দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা প্রদর্শন এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে আগামীকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএমসি) আয়োজিত এই প্রদর্শনী চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এবারের প্রদর্শনীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’।
প্রদর্শনীটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে এই মেগা ইভেন্টের আয়োজন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের এক্সপোতে উদ্ভাবনী তরুণদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং স্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে কয়েকটি বিশেষ জোনে ভাগ করা হয়েছে
শিক্ষার্থীদের সেরা উদ্ভাবনসমূহ এখানে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে ইনোভেশন জোন, দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের গ্যাজেট এর জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল জোন, তরুণ প্রজন্মের গেমিং প্রতিভার বিকাশে আছে ই-স্পোর্টস জোন এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাবসায়িক নেটওয়ার্কিং এর জন্য আছে বিটুবি জোন।
চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার এবং চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে দেশের বরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা আলোচনা করবেন। আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ এখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির রোল মডেল। এই এক্সপো আমাদের স্থানীয় সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে প্রমাণের বড় প্ল্যাটফর্ম।”
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে (প্রথম দিন উদ্বোধনের পর শুরু হবে)। দর্শকদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আগ্রহীরা www.ddiexpo.com.bd ঠিকানায় অথবা মেলা প্রাঙ্গণে সরাসরি নিবন্ধন করতে পারবেন। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধার আওতায় থাকবে।
এবারের আয়োজনে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ইপসন, অনর, এইচপি, লেনোভো, অপো, স্যামসাং ও শাওমির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো যুক্ত রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, চার দিনে প্রায় ৩ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে এই প্রযুক্তির মহা-উৎসব।






















