ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছবে নাকি ইরানে সামরিক হামলা শুরু করবে তা দেখার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ইরান নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছার এই ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে’ বিশ্ব দেখতে পাবে কী ঘটছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-কে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ সপ্তাহ শেষেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাও চলছে।
ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চাপ প্রয়োগের মধ্যেই ট্রাম্প এবার ইরানকে ১০ দিনের মধ্যে একটি চুক্তি করা, নয়ত সামরিক হামলার মুখে পড়ার আল্টিমেটাম দিলেন।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা সাড়ে তিন ঘণ্টা পরোক্ষ আলোচনা করেছেন এবং একে অপরের কাছে নোট আদান-প্রদান করেন।
তবে আলোচনা কোনও স্পষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। ইরানের শীর্ষ আলোচক বলেন, উভয়পক্ষ একটি ‘নির্দেশিকা নীতিমালায়’ একমত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এখনও অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি।”
ওদিকে, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসি-তে শুরু হওয়া গাজা শান্তি পর্ষদের উদ্বেধনী বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছতে আমাদের কিছু কাজ করা বাকি আছে। তাছাড়া, আমাদেরকে এটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে হতে পারে।”
এই মন্তব্যে ট্রাম্প এও বলেন যে, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে বেশ ভাল আলোচনা করেছে। তবে তিনি বলেন, “বছর বছর ধরেই এটি প্রমাণতি হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। তারা চুক্তি না করতে পারলে খারাপ জিনিস ঘটবে।”
এর একদিন আগে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলাটাই বিচক্ষণ হবে। তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংকটের কূটনৈতিক সমাধান আশা করছেন।
লেভিট এও বলেন যে, কূটনীতি সব সময়ই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ, তবে সামরিক পদক্ষেপও বিকল্প হিসেবে হাতে রয়েছে।
তবে ট্রাম্প সামরিক বিকল্প হাতে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য ইরানের বিরুদ্ধে কোনওরকম সামরিক ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের দুই প্রতিনিধি ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রো খান্না এবং কেনটাকির রিপাবলিকান থমাস মেসি বলেছেন, তারা আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠান করতে বাধ্য করবেন। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট এর অধীনে এ পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তারা।
ওই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে কোনও সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খতিয়ে দেখার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে। এক্সে এক পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রো খান্না লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বিপর্যয়কর হবে।”




















