দেশকে বৈশ্বিক মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন হাবে পরিণত করার বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং স্যামসাংকে দেশটিতে কারখানা স্থাপনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কোম্পানিগুলো পাকিস্তানে বড় বিনিয়োগে আসবে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
পাকিস্তানের প্রকৌশল উন্নয়ন বোর্ড (EDB) নিশ্চিত করেছে যে, প্রস্তাবিত নতুন মোবাইল এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কাঠামোর অধীনে তারা এই শীর্ষ নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে পাকিস্তানে ফোন তৈরির জন্য উৎসাহিত করা, যা দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। ইডিবি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী মনসুর জানান, “আমরা অ্যাপল এবং স্যামসাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” তবে এই প্রস্তাবিত নীতিমালাটি এখনও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক্স খাতের জন্য একটি ‘বড় নীতিগত পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বিশ্লেষকরা কিছুটা সতর্ক। তাদের মতে, কেবল আমন্ত্রণের মাধ্যমেই কারখানা বা বড় মাপের বিনিয়োগ আনা সম্ভব নয়। কারণ অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের মতো জায়ান্টরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দক্ষ জনবল এবং কাঁচামাল সরবরাহের নিশ্চয়তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
পাকিস্তান বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ প্রযুক্তির ফোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। স্যামসাংয়ের কিছু এন্ট্রি-লেভেল ফোন বর্তমানে পাকিস্তানে স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করা হলেও অ্যাপল এখন পর্যন্ত দেশটিতে সরাসরি কোনো বিনিয়োগ করেনি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অ্যাপলের সফল উৎপাদন কার্যক্রম দেখে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে চাইছে।






















