তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযানের পর ইরান যে পাল্টা জবাব দিয়েছে, তা সামরিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। ইরান তাদের বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো মার্কিন রণতরীগুলোর দিকে না ছুড়ে বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে তাক করেছে। এর নেপথ্যে কাজ করেছে ইরানের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ৫টি সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল।
উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো (যেমন: বাহরাইনের ৫ম নৌবহর বা কাতারের আল-উদাইদ) ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে। এগুলোকে সামরিক ভাষায় ‘সিটিং ডাক’ বা সহজ লক্ষ্যবস্তু বলা হয়। রণতরীগুলো যেখানে মাঝ সমুদ্রে সর্বদা মুভমেন্টের ওপর থাকে, সেখানে এই ঘাঁটিগুলোর অবস্থান স্থির। ফলে ইরানের জন্য এগুলোকে টার্গেট করা ছিল সবচেয়ে সহজ।
ইরান তাদের সবচেয়ে উন্নত এবং দূরপাল্লার মিসাইলগুলো (যেমন: খুররামশাহর বা ফাত্তাহ) এই প্রাথমিক ধাপে ব্যবহার করতে চায়নি। বাহরাইন বা কুয়েতের ঘাঁটিগুলো ইরানের স্বল্প পাল্লার (Short-range) সস্তা ও পুরোনো মিসাইলের আওতায়। ইরান মূলত তার ‘সস্তা’ অস্ত্র দিয়ে ‘দামি’ আমেরিকান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোকে ব্যস্ত রেখে তাদের সক্ষমতা যাচাই করেছে।
একটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার গ্রুপ (যেমন: ওমান সাগরে থাকা ফোর্ড ক্লাস ক্যারিয়ার) কয়েক স্তরের সুরক্ষা বলয়ে ঢাকা থাকে। এতে আক্রমণ করা মানেই ব্যর্থ হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি। অন্যদিকে, উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা অনুমানযোগ্য। ইরান শুরুতে কোনো বড় ব্যর্থতা এড়াতে এই ‘নিশ্চিত’ টার্গেটগুলোকে বেছে নিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইরান একটি রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান ওই দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে—“তোমাদের মাটি ব্যবহার করে আমাদের ওপর হামলা হলে, সেই মাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে না।” এটি মূলত কাতার বা আমিরাতকে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে আমেরিকাকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত রাখার একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা হামলার আগে অনেক ঘাঁটি খালি করে ফেলেছিল। ইরান এটি জেনেশুনেই হামলা করেছে। এতে বড় কোনো মার্কিন প্রাণহানি না ঘটিয়েও ইরান তার দেশের মানুষের কাছে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার দাবি করতে পারছে। এটি মূলত যুদ্ধের প্রথম ধাপ, যেখানে ইরান সরাসরি ‘মহাযুদ্ধ’ শুরু না করে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিল।





















