মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক একের পর এক বাতিল হচ্ছে ফ্লাইট। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে আসার ফ্লাইটও একেবারে কম। এর মাঝেও সুযোগ-সন্ধানী এক শ্রেণির চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সৃষ্ট নিরাপত্তা ইস্যুতেও ধরা পড়ছে চোরাচালানি পণ্য। সম্প্রতি ধরা পড়া অবৈধ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে— নিষিদ্ধ ক্রিম, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিগারেট প্রভৃতি।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এমন পরিস্থিতিওে এক শ্রেণির চোরাকারবারিরা সুযোগ খুঁজছে। তারা চোরাচালানি পণ্য বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশর বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাটি, স্থাপনাসহ ইসরাইলে হামলা শুরু করে। এমন অবস্থায় এসব দেশের আকাশসীমাও বন্ধ হয়ে যায়। যা বর্তমান অবস্থাতেও চলমান রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় সাড়ে চারশো ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসতেও পারছেনা ফ্লাইট। বিষয়টি নিয়ে যখন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্সগুলো খুবই উদ্বিগ্ন— এরই মাঝে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এসব চোরাকারবারিরা। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
জানা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যমানের অবৈধ সিগারেট ও আইফোন জব্দ করে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ওইদিন ইতালির রোম হতে আগত বিজি-৩৫৬ ফ্লাইটের যাত্রী আলমগীর কবিরের লাগেজ থেকে সুকৌশলে লুকায়িত অবস্থায় ৪৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে— আইফোন ব্রান্ডের ১৪টি, স্যামস্যাং ব্রান্ডের ১৪টি এবং অন্যান্য ব্রান্ডের ১৭টি স্মার্টফোন রয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন আটক ও জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য পঞ্চান্ন লক্ষ টাকা। একই দিন ফ্লাইট জি-৯-এ শারজাহ থেকে আসা যাত্রীর নিকট থেকে ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের সিগারেট জব্দ করা হয়। এর পরে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৩ জন যাত্রীর কাছে থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৩০টি আইফোন, ৩টি গুগল পিক্সেল ফোন, ৪টি ল্যাপটপ, ১৪৫ কার্টুন সিগারেট জব্দ করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য তেতাল্লিশ লাখ ১১ হাজার টাকা।
এদিকে অনেক দিন ধরেই শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নানা রকমের অপরাধ কর্মকান্ড চলে আসছে। কর্তৃপক্ষ কৌশল নিয়েও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বিমানবন্দরগুলোয় অপরাধমূলক কর্মকান্ডের শীর্ষে রয়েছে সোনা পাচার। আগের চেয়ে সোনা পাচার বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিন ধরা পড়ছে সোনার চালান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ নিয়ে বিশেষভাবে তদন্ত করেছে। তারা নিশ্চিত হয়েছে বিদেশি এজেন্টদের পাশাপাশি দেশি এজেন্টরা বেপরোয়াভাবে সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মাফিয়ারা বাংলাদেশিদের সঙ্গে আঁতাত করে পাচার করছে সোনা।
বাংলাদেশে সক্রিয় মাফিয়াদের তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সোনা পাচারকারী। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই সোনা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাচার করার সময় সোনার বারসহ আটক হচ্ছে কারবারিরা। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হচ্ছে। কিন্তু কাউকে আটকে রাখা যাচ্ছে না। কোনও কোনও আসামি জামিন নিয়ে লাপাত্তা। তাদের কেউ দেশেই আত্মগোপনে রয়েছে, কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, “পরিস্থিতি যেমনই হোক বিমানবন্দর ব্যবহার করে অবৈধ্য পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা খুব কঠিন। আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করে থাকি। যার কারণে প্রতিনিয়ত ধরা পড়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু কাস্টমস নয় বিমানবন্দরে গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অনেক সচেষ্ট থাকেন। আমরা সম্মিল্লিতভাবে বিমানবন্দরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ বলেন, “বিমানবন্দর ব্যবহার করে কেউ যেন কোনও অবৈধ্য পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে না আসতে পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।” গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি এভসেক, কাস্টমসসহ অন্যান্য সব বাহিনীও এ ব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।






















