টানা কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ কোম্পানিটির বাজার থেকে বিদায় নেবে বলে জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দুই দশকেরও বেশি সময়ের ব্যবসার ইতি টানছে হোন্ডা। খবর জাপান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়ি ব্যবসা বন্ধ করলেও হোন্ডা দক্ষিণ কোরিয়ায় মোটরসাইকেল ব্যবসা চালু রাখবে। কোম্পানিটি মনে করছে, এ খাতে এখনো প্রবৃদ্ধির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখন থেকে জনবল ও মূলধন মূলত মোটরসাইকেল খাতের উন্নয়নের পেছনেই ব্যয় করা হবে।
রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, ২০০৪ সালের মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় হোন্ডার গাড়ির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০০৮ সালে সেখানে কোম্পানিটির ব্যবসা ছিল তুঙ্গে। তখন প্রায় ১২ হাজার গাড়ি বিক্রি হয়েছিল হোন্ডার। এর পরই হুন্দাই মোটরসের মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য বাড়তে থাকে। প্রতিযোগিতার মুখে ২০২৫ সালে হোন্ডার গাড়ি বিক্রি নেমে আসে মাত্র দুই হাজার ইউনিটে।
বর্তমানে হোন্ডা সেখানে একর্ড সেডান ও সিআর-ভি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকলসহ মোট চারটি মডেলের গাড়ি আমদানি করে বিক্রি করে।
হোন্ডা জানিয়েছে, গাড়ি বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেও বর্তমান গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিক্রি-পরবর্তী সেবা, যেমন গাড়ির নিয়মিত পরীক্ষা ও মেরামতের কাজগুলো কোম্পানিটি অব্যাহত রাখবে।
জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে ইভি তৈরির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে হোন্ডা। এদিকে গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছর শেষে হোন্ডা বড় ধরনের নিট লোকসানের আশঙ্কা করছে। অ্যারাবিয়ান বিজনেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেড় হাজার কোটি ডলারের বিশাল বার্ষিক লোকসান ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাপানের প্রখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা। ১৯৫৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটিই হবে কোম্পানিটি প্রথম কোনো আর্থিক বিপর্যয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পারিশ্রমিকের একটি অংশ কোম্পানিকে ফেরত দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সনি গ্রুপ করপোরেশনের সঙ্গে হোন্ডার যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা ইভি প্রকল্পের কাজও সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া চীনে হোন্ডার চারটি কারখানার মধ্যে একটিতে পেট্রল চালিত গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরো একটি কারখানায়ও উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় হোন্ডাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার থেকে বিদায় নেয়া কোম্পানির সে বৈশ্বিক কৌশল পরিবর্তনেরই একটি অংশ।


















